গ্রামের ধনী-গরিব সবার ঘরে ঈদের দিনে একই রান্না। গ্রামটিতে প্রবেশ করলে দেখাযায় পেশায় দিনমজুর কিংবা ব্যবসায়ী, হউক কুঁড়েঘর অথবা দালান কোঠা। সবার চুলায় ঈদের দিনের রান্না একই ধরনের। সুদীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ৫২ টি ঈদ আনন্দে সবাই সমান ভাবে অংশীদার হয়ে থাকেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামে।

বিগত ২৬ বছরের ৫২টি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গ্রামের সকল-শ্রেনী-পেশার মানুষ নির্ধারিত স্থানে বৈঠকে বসেন। এসময় ঈদ সামগ্রী ক্রয়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়। উক্ত তহবিলে গ্রামের আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অনুদান দেন। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সকলের মতামতের ভিত্তিতে নয়াগাঁও গ্রামের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের
তালিকা তৈরি করেন।

চুড়ান্ত তালিকা তৈরি করার পর ওই তালিকা ভুক্ত প্রতিটি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় বিভিন্ন ঈদ সামগ্রীর মধ্যে সয়াবিন তৈল, নারিকেল, লাচ্ছি সেমাই, ময়দা ও চিনি। এসব ঈদ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে ঈদের দিন সকালে ধনী-গরীব সবাই একই জাতীয় খাবারের মাধ্যমে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় (২০ জুলাই) মঙ্গলবার বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নয়াগাঁও গ্রামের অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ঈদ সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন নয়াগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭নং নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, নওয়াগাঁও মাঝ পাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ লুৎফুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নওয়াগাঁও ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ জামিল লায়েক, মনোহর আলী, সৈয়দ দৌলতুর রহমান, সাংবাদিক সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, নওয়াগাঁও ছাত্র সংসদের সভাপতি সাংবাদিক হায়দার চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ও ছাত্র সংসদের সিনিয়র সদস্য ইয়ামিন উদ্দিন, ছাত্র সংসদের সদস্য গুলজার আহমদ, হারুন আহমদ, বদরুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, মুস্তাকিম আলী, মুসলেহ উদ্দিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬ সালে নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল ও নয়াগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান ডাক্তার আব্দুল মালিকের ছেলে এডভোকেট বাবুল আহমদ প্রাথমিকভাবে তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘরোয়া পরিবেশে এই কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তী বছরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় গ্রামের মুরব্বিদের সম্মতিক্রমে এর পরিধি বৃদ্ধি করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। যা আজ দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে চলমান এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডিজেএস-৫