নাহিদ পড়াশোনায় খুব মেধাবী ছেলে। ক্লাস এইট এ পড়ে। রেজাল্ট সব সময় ভালো। ছোট বেলা থেকেই অনেক পরিশ্রমী সে। নিয়মিত ক্লাস করা, হোমওয়ার্ক করা মিস হয় না তার।

করোনার কারণে লকডাউন চলে আসলো। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ থাকায় তার নিয়মিত পড়ালেখায় ভাটা পড়ে। সময় কাটানোর জন্য বাসার মোবাইল ফোন এর খুটিনাটি জানতে শুরু করলো সে। প্রথমদিকে বাবা মা ও তেমন কিছু মনে করতেন না কারণ ছেলে করবেই বা কি। বাইরে খেলাধুলার ও সুযোগ নেই। এর মধ্যে অনলাইন ক্লাস শুরু হলে মোবাইল ফোনটি তার জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে পড়লো।

কয়েক মাস ভালোই চলছিলো। হঠাৎ করেই সে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়লো। রেজাল্ট খারাপ হতে থাকলো। ওর শিক্ষকরাও বেজায় অবাক তার এই পরিবর্তন দেখে !

ইদানিং নাহিদ কারো সাথে কথা বলে না বেশি। সারাক্ষণ মোবাইলে পাব্জি, ফ্রি ফায়ার এসব গেম খেলতে থাকে আর রুমে শুয়ে থাকে। মা বাবা টের পেলেন সে রাতেও না ঘুমিয়ে কাটায়। বিষয়টি নিয়ে তার মা অনেক বার তাকে শাসন করেছেন কিন্তু লাভ হয়না। চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে নাহিদের। রাতে খাওয়া দাওয়া ও করে না কিন্তু সে গেম খেলবেই!

এরপর একদিন তার বাবা জোর করে তার ফোন নিয়ে নেন এবং তাকে আর মোবাইল দেয়া হবে না বলে জানান। ক্লাস করার দরকার হলে মায়ের মোবাইলে ক্লাস করার জন্য বলেন। সাথে সাথে পুরোপুরি বদলে যায় নাহিদ। ঘরের অনেক জিনিস রাগে ভেঙ্গে ফেলে এবং মোবাইল ফেরত দেয়ার জন্য চিৎকার করতে থাকে। তার মা বাবা ছেলের অবস্থা দেখে যারপরনাই বিস্মিত! এটা কি আমাদের ছেলে !

পরের দিন চিৎকার করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যায় সে। সাথে সাথে একজন ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় নাহিদকে।
পুরোপুরি চেক আপ এর পর ডাক্তার বললেন, নাহিদ মারাত্মকভাবে এসব গেম এর প্রতি আসক্ত হওয়ায় তার মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার কাউন্সেলিং দরকার নাহয় আরো বেশী ক্ষতি অনিবার্য!

নাহিদের মা এসব শুনে জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। একটি মোবাইল আর কিছু গেমস খেলার কারণে আজ ছেলের এই অবস্থা। ডাক্তার বলছেন, আজকাল এইসব গেইম এর আসক্তি কিশোর/তরুণদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে, অনেক এ বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, অনেক এ হতাশায় পড়ে আবার মাদক গ্রহণ করছে।

সময় এসেছে এসব ডিজিটাল আসক্তি থেকে আমাদের নতুন প্রজন্ম রক্ষা করার ।

লেখক: সিনিয়র অফিসার, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জিএসি-০৪