২০০৯ সালে সিলেট নগরীতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় মেয়র কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের। তৎকালীন মেয়র (মরহুম) বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের উদ্যোগে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল নগরবাসীর কাছে।

সর্বশেষ ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টটি। সবমিলিয়ে কামরান মেয়র থাকাকালীন সিটি কর্পোরেশন তিনবার আয়োজন করে এই টুর্নামেন্ট। তবে ২০১৩ সালে আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর অন্ধকার হয়ে যায় মেয়র কাপ ক্রিকেট কিংবা ফুটবল টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ।

এদিকে, প্রতি বছরই সিসিকের বাজেটে মেয়র কাপ ফুটবল ও ক্রিকেটের নামে রাখা হয় ব্যয়-বরাদ্দ। এবারের নতুন বাজেটে মেয়র কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট নামে একটি টুর্নামেন্টের ব্যাপারেও ব্যয়-বরাদ্দ রেখেছে সিসিক। 

জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বাজেটে মেয়র কাপ ক্রিকেট ফুটবলের জন্য সম্মিলিত বাজেট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। সেই সাথে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ব্যয় ধরা হয় ৩০ লক্ষ টাকা। তিনবার হওয়া মেয়র কাপ ক্রিকেটের বিপরীতে ২০১১ সালে মাত্র একবারই হওয়া মেয়র কাপ ফুটবল ছিলো উত্তেজনায় ঠাসা। খেলার ফলাফল নিয়ে নগরবাসীর উত্তেজনার মাত্রা ছিলো তুঙ্গে। মাঠের উত্তেজনা একসময় ছড়িয়ে পরেছিলো নগরীর প্রায় প্রতি ওয়ার্ডে মাঝেও। ফলাফল মেনে নিতে না পেরে শহরের রাস্তা ব্লক করে অবরোধের ঘটনাও ঘটেছিলো।

তবে সেই সময়কার ম্যাজিকাল মেয়র কামরানের দূরদর্শিতায় শেষ পর্যন্ত ভালোয় ভালোয় শেষ হয়েছিল ফুটবল টুর্নামেন্ট।

অন্যদিকে, মেয়র কাপ ক্রিকেটের সময় ওয়ার্ডগুলো হয়ে উঠেছিলো ক্রিকেট চর্চার কারখানা। জাতীয় দলের মোহাম্মদ আশরাফুল, ইমরুল কায়েসসহ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপিদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সাথে মিলেছিলো ড্রেসিং রুম ভাগাভাগির সুযোগ পেয়েছিলেন স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটাররা। মেয়র কাপ ক্রিকেটকে ঘিরে ওয়ার্ডগুলো হয়ে উঠেছিলো সুস্থধারায় ক্রীড়া চর্চার চারণভূমি। তবে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়া মেয়র কাপ গত নয় বছরে একবারও অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নগরী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খেলাধুলার চর্চা। বিক্ষিপ্তভাবে সিলেটের সাবেক খেলোয়াড়রা কয়েকবার সম্মিলিতভাবে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে কয়েকটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করলেও মেয়র কাপের মত জনপ্রিয়তা পায়নি সেগুলো।

এদিকে, ২০১৮ সালে একবার মেয়র কাপ ক্রিকেট করার ঘোষণা দেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট মন্তব্য ছিলো সে সময়- সেই ঘোষণা ছিলো মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)-এর দল সিলেট সিক্সার্সের একটি টুর্নামেন্ট আটকানোর কাউন্টারস্বরূপ। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সিলেট সিক্সার্স 'সিলেট সিক্সার্স ইন্ডিপেনডেন্স কাপ টি-১০' চ্যালেঞ্জ নামে দেশের প্রথম টি-টেন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডকে ক্রীড়াসামগ্রীও প্রদান করে সিক্সার্স কর্তৃপক্ষ। করা হয় টুর্নামেন্টের লগো ও ট্রফি উন্মোচন।

তবে সিসিকের ২৭ টি ওয়ার্ড নিয়ে আয়োজনের চিন্তা করা এই টুর্নামেন্ট সিসিককে কিছু না জানানোর অভিযোগে তাতে আপত্তি আনেন সিসিক মেয়র আরিফসহ নির্বাচিত কাউন্সিলররা। এরপর মেয়র আরিফ ঘোষণা দেন- আবারো শুরু হবে মেয়র কাপ ক্রিকেট । যদিও সেই ঘোষণা গত তিন বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ সিলেট সিক্সার্সের ভাবনায় থাকা টুর্নামেন্টটি করতে দিলে সিলেট শহরে খেলাধুলার ক্ষেত্রে এত লম্বা বিরতি দেখতে হতো না।

সিলেট নগরীর বর্তমান তরূণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামূখী করতে শীঘ্রই মেয়র কাপ ক্রিকেট ফুটবল চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা- সকল প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আবারো শহর মাতবে ক্রীড়া উৎসবে, উঠে আসবে নতুন সব তারকা।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম