পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং হাওড়া পৌর করপোরেশনসহ ১২৬টি পৌরসভার নির্বাচনী ঘণ্টা বেজে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, ১৯ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে নির্বাচন হবে কলকাতা এবং হাওড়া পৌর করপোরেশনের। এ ঘোষণার পর রাজনৈতিক ময়দানে প্রশ্ন উঠছে, আবার পৌর নির্বাচনে কংগ্রেস-বাম দল-আইএসএফ ঐক্যবদ্ধ হবে?

ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়ে হুগলির ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি এ বছরের ২১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে গড়েছিলেন রাজনৈতিক দল ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ বা ‘আইএসএফ’। দলের সভাপতি করা হয় নওশাদ সিদ্দিকিকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় শ্রীমন সোরেনকে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইএসএফ, কংগ্রেস ও বাম দল মিলে গড়ে ওঠে সংযুক্ত মোর্চা। কিন্তু আইএসএফের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতায় অভিযোগ তুলে কংগ্রেস এই জোট থেকে সরে যায়।

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে আইএসএফ বাম দলের সঙ্গে জোট করে ৩২ আসনে প্রার্থী দাঁড় করায়। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গর আসনটি জিতেছে আইএসএফ। বিধায়ক হন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকি। তবে বাম দল এবং কংগ্রেস কোনো আসনে জিততে পারেনি। এতে কংগ্রেস এবং বাম দলের নেতারা অভিযোগ তোলেন, আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।

পৌর নির্বাচনে আইএসএফের সঙ্গে জোট করা নিয়ে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও সিপিএম নেতা বিমান বসু ও কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, পৌর ভোটে স্থানীয় স্তরের নেতারা ঠিক করবেন তারা জোট করবেন কিনা। আইএসএফের সঙ্গে জোট হবে নাকি কংগ্রেস ও বাম দল দ্বিপক্ষীয় জোট করে লড়বে তা স্থানীয় নেতারা ঠিক করবেন।

গত মঙ্গলবার সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই জোট গড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তার জবাবে বামফ্রন্ট নেতা বিমান বসু বলেছেন, পৌরসভা ভোটে বামফ্রন্ট এককভাবে লড়বে। তবে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করতে চান তাদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তবে আইএসএফের সঙ্গে জোট হবে কিনা সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান বিমান বসু।

অধীর চৌধুরী বলেছেন, বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আইএসএফেএর সঙ্গে জোট গড়েনি। পৌরসভা ভোটেও তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। আমরা কখনো বামেদের সঙ্গে জোট ভাঙার কথা বলিনি। আমাদের অবস্থান একই রয়েছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে


সূত্র : প্রথম আলো