বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) দিবস আজ। আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ ২ হাজার ৩০০ একরের ক্যাম্পাস চবি। পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাস আজ পা রেখেছে ৫৬ বছরে।

সাফল্যের এক দীর্ঘ যাত্রায় এ জ্ঞান মাতৃকা পেছনে ফেলে এসেছে ৫৫টি বছর। শত বাঁধা আর প্রতিবন্ধকতাকে পার করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঝুলন্ত ব্রিজ, ফরেস্ট্রি, চালন্দা গিরিপথ, সুইচ গেট ও ঝর্ণাসহ পুরো ক্যাম্পাস পাঠ্যসূচির সহচর বিনোদন কেন্দ্র।

সারাবিশ্বের সঙ্গে একটা স্বাতন্ত্র্যতা রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। শহর থেকে ক্যাম্পাসের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। তাই শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ১৯৮০ সালে চালু হয় শাটল ট্রেন। পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্যটা এখানেই। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ছিল নিজস্ব ট্রেন। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ই পৃথিবীর একমাত্র শাটল ট্রেনের বিশ্ববিদ্যালয়।

চবির ট্রেনের ঠিকানা কিংবা গন্তব্য বটতলি থেকে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট। দু’টি শাটলের পাশাপাশি আছে ১টি ডেমুও। প্রতিদিন প্রায় দশ থেকে বার হাজার শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াতের মাধ্যম এই শাটল ও ডেমু ট্রেন। ‘জয়বাংলা ভাস্কর্য’ চবির সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

দেরিতে হলেও দেশের স্বাধিকার আন্দোলনের স্মৃতিকে নির্দেশ করে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্য। পাশাপাশি ক্যাম্পাস আঙিনায় হাই টেক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যে।

১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভের পর উপাচার্য ড. আজিজুর রহমান মল্লিকের হাত ধরে শুরু হয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এক নব যৌবনে এসে পা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এর ভেতরে এখানে অভিভাবকত্ব করেছেন ১৮ জন খ্যাতিমান ব্যক্তি।

৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ৫৫ বছর পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাবো। আমার সুদক্ষ সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি আমার কাঁধে দিয়েছেন, তা সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো। আর এ পথচলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি পরিবারের মতো এগিয়ে যেতে চাই।’

২০২১ সালে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনলিপি অনুযায়ী বর্তমানে ২৭ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এ জ্ঞান আঙিনায়। ৪টি বিভাগ নিয়ে শুরু করা চবিতে বর্তমান বিভাগ দাঁড়িয়েছে ৪৮টি। ৯টি অনুষদ আর ছয়টি ইনস্টিটিউটে চলছে বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। আছে ৫টি গবেষণা কেন্দ্র। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধার জন্য রয়েছে ১২টি হল।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে


সূত্র : ইত্তেফাক