ইসলামি শরিয়তের যাবতীয় হুকুম-আহকাম অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা এবং নিজেদের জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নেওয়ার নামই ঈমান। আর এটি মুমিনের জন্য সবচেয়ে দামি জিনিস। একজন পরিপূর্ণ মুমিন তো সেই ব্যক্তি যিনি শরিয়তের বিষয়গুলোকে গভীরভাবে বিশ্বাস করার পাশাপাশি মৌখিক স্বীকৃতিসহ জীবনে পূর্ণাঙ্গভাবে আমল করেন।

তবে বিশেষ কিছু কারণে মানুষ ঈমান হারিয়ে ফেলে। মানুষের ঈমান হরণকারী কাজগ্রলো হচ্ছে কুফর। কুফর হলো সেই জিনিস যা গোপন করা হয়। ইসলামিক স্কলারগণ কুফরের ৫টি বিষয় তুলে ধরেছেন-

১. কুফরে তাকজিব
নবী-রাসুলগণকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা।

২. কুফরে ইসতিকবার
অহংকারের কারণে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের হুকুম অমান্য করা এবং গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানো।

৩. কুফরে ইরাজ
পয়গাম্বরদের (নবী-রাসুল) সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী কোনোটাই না বলে বরং উপেক্ষা করা এবং এ বিষয়ে মনোযোগ না দেয়া।

৪. কুফরে ইরতিয়াব
পয়গাম্বরদের (নবী-রাসুল) সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী কোনোটাই বিশ্বাস না করা বরং সন্দেহ ও সংশয় করা। এটাও কুফর।

৫. কুফরে নিফাক্ব
মুখে ঈমানের কথা স্বীকার করলেও অন্তর থেকে অস্বীকার করা। মুনাফেকির এ গুণের কারণে মানুষ ঈমান হারিয়ে ফেলে।

তাছাড়াও এ বিষয়গুলোর অবিশ্বাসেও মানুষ ঈমান হারা হয়ে যায়-
১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা।
২. আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী রূপে অন্য কাউকে স্থাপন করা।
৩. শিরককারীকে কাফের মনে না করে সঠিক পথের অনুসারী বলে মনে করা।
৪. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্ত ও পথ নির্দেশনার চেয়ে অন্যের সিদ্ধান্তকে বেশি উত্তম মনে করা।
৫. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো একটি হুকুমকে ঘৃণা করা।
৬. কুরআন নিয়ে ঠাট্টা ও উপহাস করা।
৭. জাদু টোনা করা কুফরি। এর ফলে মনবতার শান্তি ও সুসম্পর্ক বিনষ্ট করাও কুফরি।
৮. মুসলমানদের বিপক্ষে মুশরিকদের (অবিশ্বাসীদের) সহায়তা করা।
৯. এমন বিশ্বাস রাখা যে, কিছু ব্যক্তি আল্লাহ এবং রাসুলের প্রণীত আইন ভঙ্গ করার ইখতিয়ার (ক্ষমতা) রাখে।
১০. আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত এই দ্বীন-ইসলামকে পুরোপুরি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করা। তা থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উক্ত কুফরি কাজ থেকে নিজেদের ঈমাণকে হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। মহামূল্যবান সম্পদ ঈমান রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। কুফরি মতবাদ পরিহার করে ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। কুরআন-হাদিস মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দিন। আমিন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জিএসি-১০


সূত্র : জাগো নিউজ