বহু জল্পনা কল্পনার অবসার ঘঠিয়ে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলেও শেষ মূহুর্তে একটি ইউনিয়নে প্রার্থী বদল করা হয়েছে।

চমকে ভরা প্রার্থী তালিকায় কামারচাক ইউনিয়নের দুই বারের চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিমের নাম থাকলেও বুধবার সন্ধ্যায় তাকে বাদ দিয়ে কালাইকোন গ্রামের আতাউর রহমান নামে আরেকজন কে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে হুরোস্তুল শুরু হয়েছে।

কামারচাক ইউনিয়নের নতুন প্রার্থী মো. আতাউর রহমান এর আগে আলোচনায় না থাকলেও আকস্মাত তার নাম চলে আসায় আওয়ামীলীগ বলয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ‘নিশ্চিত পাবেন’- এমন প্রাত্যাশিরা নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় অনেকের মাঝেই হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামীলীগ আর ৩টিতে বিদ্রোহী ও ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে সবকটিতেই নৌকা প্রতীকের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়েই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হযেছে বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।

রাজনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে যারা নৌকা প্রতীক পেয়েছেন তারা হলেন- ফতেপুর ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. বখতিয়ার উদ্দিন, উত্তরভাগ ইউনিয়নে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সোহেল আলম, মুন্সিবাজার ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ছালেক মিয়া, পাঁচগাঁও ইউনিয়নে ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ছানা, রাজনগর ইউনিয়নে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম সোহেল, টেংরা ইউনিয়নে জেলা যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ মাহমুদ উদ্দীন, মনসুরনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিলন বখত্, কামারচাক ইউপিতে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নজমুল হক সেলিমের নাম পরিবর্তন করে মো. আতাউর রহমানকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজনগরের ৮টি ইউপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা সম্প্রতি ঢাকায় পাঠান। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দেন।

রাজনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন বখত বলেন, বিষয়টি জেনে আমরা অবাক হয়েছি। উপজেলা-জেলা থেকে নৌকাপ্রাত্যাশিদের তিনি ছিলেন না। এরপর বিষয়টি কীভাবে হলো- জেলা সভাপতি নেছার আহমদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানও জানেন না। এতে উপজেলার আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মীরা মর্মাহত। আমি আশা রাখছি আবারো নজমুল হক সেলিমকে নৌকার প্রার্থী করা হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / সোহেল / ডি.আর