সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গত দুইদিন আগে স্থানীয় একটি ফেইসবুক পেইজে লাইভে আসেন একইন ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনাফ মিয়া। মনাফ মিয়া লাইভে বলেন- চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর নজরে আসে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের।

বুধবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মাতাব উদ্দিন ও ইউপি সদস্য কুতুব উদ্দিনকে সাথে নিয়ে অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনাফ মিয়ার বাড়িতে যান।

আলোচনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মনাফ মিয়ার স্ত্রী আছারুন বেগম বলেন, গত মঙ্গলবার ইউনিয়নের সদস্য জামাল উদ্দিন কয়েকজন লোক নিয়ে আমার স্বামীকে ঐ কথাগুলো বলতে বলেন। আমার স্বামী তাদের কথা অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ জিলুর নামে এসব বলেছেন।

তিনি আরো বলেন,আমার স্বামীর বয়স ৭০ বছরের উপরে উনার মস্তিষ্ক সব সময় ভাল থাকে না। জামাল মেম্বারের ব্যক্তিগত কোন কারন থেকে এসব করিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সিলেটভিউকে বলেন, আমরা অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনাফ মিয়ার বাড়িতে গিয়েছিলাম। উনাদের সাথে আলোচনা করে জানলাম, ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ জিলুর বিরুদ্ধে অপ-প্রচার করা হয়েছে।কতিপয় ব্যক্তি কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য এসব ন্যাক্কারজনক অপ-প্রচার চালাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনাফ মিয়া বয়োজ্যেষ্ঠ মাঝে মাঝে উনার কথাবার্তা এলোমেলো হয়ে যায়। এই সুযোগ নিয়েছে কতিপয় কুচক্রীরা।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু সিলেটভিউকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের সুর্য সন্তান। নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে তাঁরা এদেশ স্বাধীন করেছেন, আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আমি কোন অসম্মানজনক কথা বলিনি। কিছু ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে। কোন অভিযোগের খোজ খবর না নিয়ে কুচক্রীদের লোভে পড়ে ফেইসবুকে লাইভ করা ঐ পেইজের এডমিনের বিরুদ্ধে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরো বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ বা যোদ্ধাদের নিয়ে অসম্মানজনক কিছু বলা তো বহুদুর।বেশ কিছুদিন আগ থেকে আমি উদ্যোগ নিয়েছি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও ছবি ইউনিয়ন কার্যালয়ে টানিয়ে রাখার। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছি এটাও কোন পক্ষের গা-জালার কারন হতে পারে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জামাল আহমেদকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ফরিদ / ডি.আর