গত দু'বছর আগেও ভিটেমাটি ও ফসলি জমির মালিক ছিলেন কৃষক হারুন মিয়া ও স্ত্রী লাভলি বেগম। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিলো নিজের ভিটেবাড়িতে। কিন্তু আজ তাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে কুশিয়ারা নদীর সর্বনাশী ভাঙ্গন। দুই ছেলে-কে নিয়ে তিনি আজ নিঃস্ব। এর চেয়েও ভয়াভহ অবস্থার বর্ণনা দিলেন দিনমজুর লুলু মিয়া। তিনি জানান, সব হারিয়ে তিনি একেবারেই নিঃস্ব। কুশিয়ারা নদী তীরে তাদের বাড়ি ছিলো। দুই ছেলে এবং স্ত্রী নিয়ে বসবাস করতেও ওই বাড়িতে। গত এক বছর আগে পুরো বাড়িটি কুশিয়ারা নদী গ্রাস করে নেয়। বসতভিটা কুশিয়ারাতে বিলীন হওয়ায় তিনি নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। এরকম মানবেতর চিত্র সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের উজান গঙ্গাপুর এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ওই এলাকায় টনু মিয়া, মনসুর আলী, হানিফা বেগম, মখদ্দস আলী, রুবেল মিয়াসহ নদীভাঙনের শিকার অনেকেই। দিনমজুর করে জীবন চালানো ভুক্তভোগীরা বলেন আমাদের বসতবাড়িটিও নদী নিয়ে যায়। কেউ কেউ ভাঙ্গন বুঝতে পেরে আগেই ঘরটি সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। পরে অন্যের জায়গায় ঘরের আসবাবপত্র রেখে দিলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা। শুধু লাভলি বেগম, লুলু মিয়া বা টুনু মিয়া নয় এ রকম বিপাকে রয়েছেন প্রায় ৩০টি পরিবার।

এলাকাবাসী জানান, ৫/৭ বছর ধরে নদী ভাঙ্গন দেখা দিলেও গেল দু'বছর থেকে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গৃহহারা হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এখনো হুমকির মুখে রয়েছে ঐ এলাকার প্রায় ১৫ টি পরিবার। নদী ভাঙ্গন নিয়ে কথা হয় এমন কয়েকজনের সাথে। তারা বলেন দ্রুত কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নিলে অনেক পরিবার বেচে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমরান উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি-২৩