আর মাত্র ২৪ দিন। বিদায় নিচ্ছে আলোচিত ২০২১ সাল। কিন্তু বছরটি গেল ২০২০-এর বিষে ছিলো অশান্ত- বিষাক্ত।

সিলেটবাসীর কাছে বিশেষভাবে আলোচিত ২০২০ সালে সংঘটিত এমসি কলেজে গণধর্ষণ ও নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হানের ঘটনা ২০২১ সালজুড়েও আলোচনার শীর্ষে ছিলো।


সিলেট ভিউ'র খবর নিয়মিত পেতে

দিয়ে যুক্ত থাকুন

২০২০ সালের শেষদিকের দুই অপরাধ ২০২১ সালকেও ম্লান করে দেয়। কারণ সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগ কর্তৃক তরুণীকে গণধর্ষণ ও পুলিশ ফাঁড়িতে যুবক রায়হান উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মামলার পুরো কার্যক্রম চলেছে চলতি বছরে। যার কারণে এমসি কলেজে তরুণী গণধর্ষণ ও রায়হান হত্যা মামলার ঘটনা বছরজুড়ে ছিলো গণমাধ্যমের প্রদান খোরাক। আর এই দুই ঘটনার বিচারের দাবিতে চলতি বছরে আন্দোলন আর প্রতিবাদে পুরো সিলেট ছিলো উত্তাল।

করোনাকালে বন্ধ থাকা ১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি) ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার দুই মাস পর ৩ ডিসেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

গত বছরের ১১ অক্টোবর ভোররাতে সিলেটের পুলিশ ফাঁড়িতে যুবক রায়হান উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর পালিয়ে যান এসএমপির কোতোয়ালি থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় প্রথম পর্যায়ে ৪ পুলিশ বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। হত্যার বিচার দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পলাতক আকবরকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেন এক প্রবাসী। অবশেষে কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকা থেকে গত ১০ নভেম্বর আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় আরও ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত হন। রায়হান হত্যা মামলাটি পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হলে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যার পুরো বিচার কাজ ২০২১ সালে চলে এবং তা এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অপরদিকে, ২০২০ সালে এমসি কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় দাখিলকৃত দু’টি মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে দাখিলকৃত মামলাটি গত ৩ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগের মামলাটি সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য বদলি করেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান। অস্ত্র আইনের মামলাটির চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে ছিলো। পরে বাদিপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করে ওই মামলাটিও বাদিপক্ষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্জ বলেন, আলোচিত এই মামলা দুটি আদালতে বিচারাধীন। যদিও এমসি কলেজের এই ঘটনাটি ২০২০ সালের তবে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে পুরো দেশ চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত উত্তাল ছিলো।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে একটি রাস্তায় প্রাইভেট কারের মধ্যেই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদি হয়ে এসএমপির শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা করেন। রাতে কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে। এর মধ্যে ৩ ডিসেম্বর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. আবুল কাশেমের আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। ওই মামলাগুলোর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে দাখিলকৃত মামলাটি দু’ভাগে চার্জশিট প্রদান করা হয়।

এদিকে, গত বছরের ৫ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত এক হাজার ৯শ পৃষ্ঠার চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত বছর ১০ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতে সিলেট শহরের আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান। পরদিন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্তে প্রথমে পুলিশ ছিল। পরে সে বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটি স্থানান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই)। চলতি বছর ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ছয়জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা হয় চার্জশিট। এর মধ্যে পাঁচজনই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ। অভিযুক্ত অপরজন পলাতক আব্দুল্লাহ আল নোমান।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / শিপু / ডালিম