সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকলে রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে যেন হন আরও অসুস্থ। কারণ- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ভেতরে বিভিন্ন স্থানে জমে আছে দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা। নিরুপায় হয়ে আসা রোগীদের সেবাদানকারী সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি যেন অভিভাবকহীন!

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ঘুরে দেখা যায়, নতুন ভবনের নিচতলায় চিকিৎকরা রোগীদের সেবা দেন। বর্তমানে উপজেলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের কোভিট-১৯ প্রতিরোধক টিকা প্রদান করা হচ্ছে। যেখানে টিকা প্রদান করা হচ্ছে সেখানের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। মাস্ক মুখে দেওয়া অবস্থায়ও নাকে প্রবেশ করে তীব্র দুর্গন্ধ।


দেখা যায়- সেবা নিতে আসা রোগী, রোগীর স্বজন ও টিকা গ্রহীতা শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে যাওয়ার উপায় নেই। খুব বেশি নোংরা। দিনের পর দিন পরিষ্কার করা হয় না প্রস্রাব-পায়খানার কক্ষ ও কমোডগুলো। এছাড়া হাত-মুখ ধোয়ার বেসিনগুলোও ব্যবহারযোগ্য নয়, এমনটাই অপরিচ্ছন্ন এবং নোংরা।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. সালাহউদ্দিন মিয়া মুঠোফোনে সিলেটভিউ-কে বলেন, আমি গত ২ জানুয়ারি এখানে যোগদান করেছি। বর্তমানে প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় রয়েছি। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি।


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মমি দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিলেটভিউ-কে বলেন, এটি নতুন বিল্ডিংয়ে দৃশ্য। পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের লোকজন এসব দেখা-শুনা করেন। মেডিকেলটিতে জনবল সংকট। মাত্র ২জন ক্লিনার রয়েছেন। একজন রাতে একজন দিনে ডিউটি করেন।

ময়লা-আবর্জনার স্তুপের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, ময়লাগুলো দীর্ঘদিনের। এগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূসরাত আজমেরী হক সিলেটভিউ-কে জানান, বিষয়টি খুবই দু:খজনক। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, অনেকেই বিভিন্ন সময় আমাকে বিষয়টি জানান। কয়েকবার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কারের জন্য বলেছিও। তারপরও এই অবস্থা থাকা সত্যিই দু:খজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবারও বলবো।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / হানিফ / ডি.আর