ব্যাংকিং কিংবা ই-কমার্স কেনাকাটাসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে হয়। এসব মাধ্যমে নিজেদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সচেতন থাকতে হয়। ঠিক একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও রয়েছে বেশকিছু নীতিমালা ও টুলস; যা আপনার পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।

 


জেনে নেওয়া যাক ফেসবুকে নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৫টি ফেসবুক সিকিউরিটি টুল। এর প্রতিটিই ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন কিংবা মোবাইল অ্যাপ থেকেও ব্যবহার করা যাবে।

এজন্য ডেস্কটপ থেকে প্রোফাইল অ্যাভাটার থেকে যেতে হবে সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি অপশনে। সেখান থেকে সেটিংস। আর ফেসবুক অ্যাপ থেকে মেন্যু থেকে সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি। আর সেখান থেকে সেটিংস অপশন সিলেক্ট করতে হবে।


ওয়াজ দ্যাট মি?
হোয়্যার ইউ আর লগড ইন- সুবিধাটির মাধ্যমে আপনি কোন অবস্থান ও ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগ ইন করেছেন, তা দেখার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের যেকোনও অস্বাভাবিক কার্যক্রম বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে চিহ্নিত করতে পারবেন এবং অপরিচিত কোনও স্থান থেকে লগ ইন হওয়া ডিভাইসকে ‘নট মি’ হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করে তোলার পদক্ষেপ নিতে পারবেন। যদি আপনি প্রায়ই অনেকে ব্যবহার করে থাকে এমন কম্পিউটার বা অন্য কারও ডিভাইস থেকে ফেসবুকে লগইন করে থাকেন, তাহলে এই ফিচারটি নিয়মিত চেক করে দেখা আপনার জন্য খুবই জরুরি।


ইজ দ্যাট ইউ?
অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতের সেরা উপায় হলো অপরিচিত লগইনের জন্য অ্যালার্ট চালু করা। গেট অ্যালার্টস অ্যাবাউট আনরিকগনাইজড লগইনস ফিচারটি চালু করার মাধ্যমে আপনি অপরিচিত কোনও ডিভাইস থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ফেসবুক মেসেঞ্জার ও নিবন্ধিত ই-মেইলে একটি নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন, ফলে অস্বাভাবিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনও কার্যক্রম দ্রুত চিহ্নিত করতে পারবেন।

পাসওয়ার্ডকে হালকাভাবে নেবেন না
অনেকেই মনে রাখার সুবিধার্থে সহজ এবং নিজের বিশেষ কোনও স্মৃতির (জন্মদিন, বার্ষিকী, স্বামী-স্ত্রী বা প্রিয়জনের নাম) সঙ্গে মিল রেখে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, যা সহজেই অনুমান করে নেওয়া যায়। তাই, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদার করে হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহারকারীদের জন্য কাজটি কঠিন করে দিতে হলে পাসওয়ার্ডে থাকা চাই সংখ্যা, বিভিন্ন ক্যারেক্টার ও শব্দের অনন্য সমন্বয়। অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ও বিভিন্ন ক্যারেক্টার মিলিয়ে দেওয়া পাসওয়ার্ড চুরি করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি থেকে চেঞ্জ পাসওয়ার্ডে ক্লিক করে আপনি আপনার পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন।

আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড আপনার ই-মেইল বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো অন্যান্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ডের চাইতে ভিন্ন হওয়া উচিত। পাসওয়ার্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার ই-মেইলের ঠিকানা, ফোন নম্বর বা জন্মদিনের মতো অনুমেয় তথ্যগুলোর ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

দুই স্তরের নিরাপত্তা
আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে আরও নিরাপদ করে তুলতে চাইলে এর টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা টুএফএ সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে লগইনের চেষ্টারত ব্যক্তি আপনিই কি না, তা নিশ্চিতে দুটি ধাপ পার করতে হবে। সাধারণত প্রথম ধাপে পাসওয়ার্ড প্রবেশের পর দ্বিতীয় ধাপে ব্যবহারকারীকে একটি লগইন কোডও প্রবেশ করাতে হবে, যা ওই ব্যবহারকারীর নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বরে টেক্সট মেসেজ বা ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) হিসেবে পাঠাবে ফেসবুক। ব্যক্তিগত বা অর্থ সংক্রান্ত তথ্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন ক্ষেত্রে ব্যাংক বা অন্যান্য অনলাইন সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই এ ধরনের দুই স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। নিরাপদ উপায়ে লগইনের পর আপনি প্রয়োজনে অথোরাইজড লগইনস সুবিধার মাধ্যমে যেসব ডিভাইস নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন, সেগুলোকে আলাদাভাবে নির্বাচিত করে রাখতে পারেন; সেক্ষেত্রে, পরবর্তীতে এই ডিভাইসগুলোতে আর কোড দিতে হবে না। এছাড়া, আপনি অ্যাপ পাসওয়ার্ডসও সেট করে নিতে পারেন।

ক্ষতিকর সফটওয়্যার থেকে সতর্ক থাকুন
যেকোনও অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে নিশ্চিত হোন, এটি বিশ্বাসযোগ্য কি না। আপনার ওয়েব ব্রাউজারটি হালনাগাদ রাখুন এবং ব্রাউজারের অ্যাড-অনস বা যেকোনও অ্যাপের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তা মুছে ফেলুন। অপরাধপ্রবণ ডেভেলপাররা কার্টুন ইমেজ এডিটর বা মিউজিক প্লেয়ারের মত বিভিন্ন মজার বা কার্যকর অ্যাপের আদলে ক্ষতিকর অ্যাপ তৈরি করে তা মোবাইল অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই অ্যাপগুলো ইনস্টলের পর উল্লেখিত ফিচারের সুবিধা পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের ফেসবুকের মাধ্যমে লগইনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে, যা আসলে তাদের তথ্যচুরির কৌশল।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/নাজাত