ঘন্টা বেজে গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। নির্বাচনে লড়তে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। সিলেট জেলার ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় অর্ধশত। এদের মধ্যে দুটি আসনে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত, বাকি চারটি আসন নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। যে কারণে এসব আসনের প্রার্থীরা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আসনগুলো বাগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে তদবিরে ব্যস্ত।

সিলেট-১ আসনে ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও সিলেট-৪ আসনে ইমরান আহমদ বর্তমান সংসদ সদস্য। তারা দুজনেই সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে তাদের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। তবে নির্বাচনের পরিস্থিতিতে পাল্টে গেছে বাকি চারটি আসনের হিসাব-নিকাশ। জোটের ভাগবাটোয়ারা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিতে এই চারটিতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে আওয়ামী লীগ।


দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী অংশ নেননি। দশম নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে দলীয় প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় আওয়ামী লীগ। একাদশে জোটের অনুকূলে আসনটি ছেড়ে দিলেও জয়লাভ করেন গণফোরামের প্রার্থী। এবার এই আসনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি থাকলেও ভোটের হিসাব-নিকাশে আসতে পারে ভিন্ন সিদ্ধান্ত।

সিলেট-৩ আসনে গেল তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ কয়েসের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনেও দলের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বিজয়ী হন। তবে এবার জোটগত নির্বাচনে এই আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হতে পারে।

সিলেট-৫ আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার বিজয়ী হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জোটের সাথে ভাগাভাগি করলে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন। একাদশে এসে ফের আসনটি নিজেদের করে নেয় আওয়ামী লীগ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে আরেকবার এই আসন ভাগাভাগির নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

গত তিনটি নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন নিজেদের দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এবছর নির্বাচনী মাঠে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অংশগ্রহণের বার্তা না দেওয়ায় অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বি দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তৃণমূল বিএনপি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী। গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শমসের মবিন বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ছিলেন। আসন ভাগাভাগির হিসাব-নিকাশে এই আসনটিও রয়েছেন শীর্ষ আলোচনায়।

অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, উৎসবমুখর ভোট ও কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো-এসব বিষয় চিন্তায় রেখে দেশের সবকটি আসনেই প্রার্থী নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগ ছাড়াও ভিন্ন দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী চায় তারা।

এদিকে, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে বিপুল সংখ্যায় আওয়ামী লীগের নেতা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হতে পারেন বলে উল্লেখ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে দলও খুব একটা কঠোর হবে না বলেও উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।

নানা হিসাব-নিকাশের পরও ‘নৌকার ঘাঁটি’ সিলেটের সবকটি আসন নিজেদের করে রাখতে চান দলটির নেতাকর্মীরা। তবে জোটগত নির্বাচনে দুয়েকটি আসন আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিতে যাচ্ছে এটা অনুমেয়।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর)  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ৩০০ সংসদীয় আসনে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। দুইদিন পর ঘোষণা আসতে পারে দলীয় চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকার।

তবে, সকল জল্পনা-কল্পনা আর হিসাব-নিকাশের ফল আসতে পারে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বরের পর।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ