বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারের (টয়লেট) অপরিচ্ছন্নতায় রোগী ও জনসাধারণের দূর্ভোগ চরমে। সরকারি হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত টয়লেট, নেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। একজন সুস্থ মানুষ যেন রোগী হওয়ার সম্ভাবণা।
 

অনেকে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে গেলেও টয়লেট ব্যবহারে পড়েন বিড়ম্বনায়। পুরুষের চেয়ে নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশের টয়লেটের কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন নারীরা।সাধারণ মানুষ নানান রোগ-শোক নিয়ে হাসপাতালে যায়। বিয়ানীবাজার হাসপাতালের এমন বেহাল দশায় কর্তৃপক্ষ উদাসীন।
 


চিকিৎসকদের তথ্যমতে, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহারে টাইফয়েড, জন্ডিস, কলেরা বা ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও অপর্যাপ্ত টয়লেটের কারণে প্রস্রাব চেপে রাখায় মূত্রনালিতে সংক্রমণ ঘটছে। বিশেষ করে নারীরা পরিবেশ না পেয়ে জরুরি প্রয়োজনেও টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন না। আবার পিরিয়ডকালীন প্রয়োজনে টয়লেট ব্যবহার না করলে মূত্রনালির পাশাপাশি জরায়ুতে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ফলে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন জরায়ুর সংক্রমণে।
 

বুধবার (২২ নভেম্বর) বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট ঘুরে দেখা যায়, দু’তলায় আবাসিক ভর্তি বিভাগে প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ৩ থেকে ৪শ’ রোগী ও স্বজনরা এসে থাকেন। তাদের বড় অংশ নারী। তবে এখানে বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য টয়লেট অপর্যাপ্ত। এগুলোর মধ্যে আবার কয়েকটি তালাবদ্ধ ও ব্যবহার অনুপোযোগী। টয়লেটের সঙ্গে হাত ধোয়ার বেসিন বা জায়গা থাকলেও এগুলোতে টেপ নেই। অসংখ্য মানুষ ব্যবহার করার কারণে এসব টয়লেট প্রতি ঘণ্টায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার না করায় সেগুলো হয়ে পড়ে নোংরা ও ব্যবহারের অনুপযোগী। টয়লেটের ফ্লোর-টাইলস পিচ্ছিল, বেসিনের টেপ নেই, অপরিষ্কার পানি, দূর্গন্ধ, বমি-রক্তের দাগ, ফিটিংসের জোড়া দিয়ে পানি পড়াসহ নানা ত্রুটি দেখা যায়। অসতর্কভাবে কেউ টয়লেট ব্যবহার করলে পিচ্ছিল ফ্লোরে পড়ে অপ্রীতিকর কিছু ঘটতে পারে।
 

এই হাসপাতালে ব্যবহার উপযোগী এবং অনপযোগী টয়লেট কয়টি আছে, তা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মনিরুল হক খান। তিনি বলেন, হাসপাতালে ৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর স্থলে আছেন ১ জন। আর মাত্র একজন সুইপারকে দিয়ে পুরো হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা অনেক কঠিন।
 

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কথা হয় সাইদুল আলমের সঙ্গে। অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চেম্বারের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থাকায় অসুস্থ মেয়ের টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে অনেক খোঁজাখুঁজি করে টয়লেট পাননি।
 

সাইদুল আলম বলেন, ছেলেদের জন্য সমস্যা একটু কম হলেও মেয়েদের জন্য এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এখন ব্যবহারযোগ্য টয়লেট নেই বললেই চলে। ফলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। জরুরি প্রয়োজনে টয়লেট খুঁজলে ওয়ার্ডের টয়লেট দেখিয়ে দেন দায়িত্বরতরা।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/হাফিজুর/এসডি-৪৯৬