মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলায় হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। এটি হবে দেশের তৃতীয় সাফারি পার্ক। প্রকল্পটি সম্প্রতি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮০ কোটি টাকা।
 

প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির জন্য ৩৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, শেষ হবে ডিসেম্বরে।


প্রকল্প এলাকার আয়তন ৫ হাজার ৬৩১ একর। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০২ একর বায়োডাইভার্সিটি পার্ক ও ২৭০ একর কোর সাফারি পার্ক। পার্কে রাখা হবে দেশি-বিদেশি প্রাণী।
 

বন বিভাগ মনে করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মৌলভীবাজারে পর্যটনের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। কর্মসংস্থান হবে এলাকার মানুষের। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, উদ্ভিদ ও প্রাণিবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক স্থাপন করা হলে পরিবেশের জন্য সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হবে। এ বন থেকে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণিবৈচিত্র্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে। জানা যায়, দেশের অন্যতম ক্রান্তীয় চিরসবুজ ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনভূমি লাঠিটিলা।
 

জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত এ বনভূমির আয়তন ৫ হাজার ৬৩১ একর। এখানে থাকা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে রয়েছে উল্লুক, মায়াহরিণ, উল্টোলেজি বানর, আসামি বানর, মুখপোড়া হনুমান, হাতি। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের দুর্লভ পাখির আবাস। এ বনের ২৭০ একর জুড়ে গড়ে তোলা হবে সাফারি পার্ক। দর্শনার্থীরা গাড়িতে ঘুরে ঘুরে খুব কাছ থেকে প্রাণী দেখতে পারবেন। এ ছাড়া প্রাণিকুলের বসবাস ও প্রজননের জন্য থাকবে উপযুক্ত স্থান। থাকবে হাতি পুনর্বাসন কেন্দ্র। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজারের জেলা সমন্বয়ক আ স ম ছালেহ সুহেল বলেন, ‘লাঠিটিলা বনে যে জীববৈচিত্র্য বা ভূমির বৈশিষ্ট্য, তা দেশের অন্য কোনো বনে নেই। বনে প্রাণীরা অবাধ বিচরণ করে।
 

এখানে সাফারি পার্ক হলে জীববৈচিত্র্যের এ পরিবেশ থাকবে না। এ বনবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে সরকার সরে আসবে বলে আমরা আশা করি।’ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষক বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ সাফারি পার্ক হলে মৌলভীবাজারে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হবে। দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক এ পার্কে আসবেন। বনের মাত্র ২৭০ একর জায়গায় এ পার্ক করা হবে। এতে বনের কোনো ক্ষতি হবে না।’ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি বলেন, ‘এ এলাকায় বসবাসকারীদের আমরা সুবিধাজনক জায়গায় রাখব; বনের ক্ষতি না হয় সেদিকে আমরা খেয়াল নেব। পার্ক হলে এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’


 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর