দেশের মেধাবী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা অনুযায়ী কাজ করছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলো। "চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে" এমন শ্লোগানে কাজ করতে থাকে বাহিনী গুলো। এ ছাড়াও "মাদককে না বলুন" লেখা ব্যানারে সীমান্তে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পরেও কমছে না মাদকের ব্যাপকতা।
 

সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পিকআপ ভর্তি ৫০ লক্ষ টাকার বিশাল মদের চালান আটক করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। এত বড় মদের চালান আটকের খবরে হৈচৈ পড়েছে পুরো কোম্পানীগঞ্জে। তবে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে এতবড় মদের চালান কেমনে দেশে আসলো তা নিয়ে চলছে সমালোচনা।
 


গত ২১ নভেম্বর ভোরে একটি পিকআপসহ ২ হাজার ৪২৯ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন নামি-দামি ব্রান্ডের মদ আটক করেন পুলিশের এএসআই কাঞ্চন চক্রবর্তী। তিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ উত্তর পাড়ার আল্লাহ ভরসা স্টোন ক্রাশার মিল থেকে মদ সহ গাড়িটি আটক করেন।
 

পুলিশ বলছে এই মদ ভারত থেকে এসেছে এবং এর কার্টোনের গায়ে মেড ইন ইন্ডিয়া লেখা রয়েছে।

ভারতীয় মদের এই বিশাল চালান পুলিশ আটক করলেও সীমান্তে যাদের আটকানোর কথা সেই বিজিবির চোখ প্রতিনিয়ত ফাঁকি দিচ্ছে মাদক কারবারিরা।
 

খবর নিয়ে যানা গেছে, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের বরম সিদ্ধিপুর, মাঝের টুক, উৎমা ও তুরুং এবং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ভোলাগঞ্জ ও নারাইনপুর এর মধ্যবর্তী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আসছে এসব মাদক। ভোলাগঞ্জ ও নারাইনপুর এর মধ্যবর্তী ভারতীয় সীমান্তে পানি প্রবাহের জন্য কয়েকটি স্থানে বড় বড় পাইপ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নারাইনপুর এর সাইট দিয়ে সীমান্ত এলাকার কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নাই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকারের মাদক দেশে আসছে। এসব এলাকায় বিজিবির টহল কম থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
 

গত ৫ মাসে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ২টি মাদক বহনকারী পিকআপ সহ ৩ হাজার ৮০ বোতল মদ আটক করেছে। এই সময়ের মধ্যে ১১টি মামলা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে জানা যায় এই ৫ মাসে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি মামলাও দেওয়া হয়নি।
 

এদিকে কোম্পানীগঞ্জের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন এখানে আসেন। কেউ সেবন করেন আর কেউ সাথে নিয়ে যান। উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন মাদকের নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। এই এলাকায় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক সেবনকারীরা এসে মাদক সেবন করে নিরাপদে চলে যাচ্ছেন। মহাসড়কের দু'পাশে ফেনসিডিল আর মদের বোতলে সয়লাপ। গত ১ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র রাত সাড়ে ৩টায় দক্ষিণ রণিখাই এলাকার মহাসড়ক এর সুন্দ্রগাঁও ব্রিজের উপর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যায়। এসময় তার পাশে একটি মদের বোতলও পাওয়া যায়। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয় সে এই এলাকা থেকে মদ খেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সিলেট যাচ্ছিল।
 

বিজিবি কালাসাদেক কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রজব আলী জানান, আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষদের সচেতন করতে প্রায়ই সচেতনতামূলক বৈঠক করি। এ ছাড়াও যে কোন সময় মাদকের তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে চলে যাই। চোরাকারবারিরা সব সময় আমাদের পাহারা দিয়েই চোরাকারবার করে। আমরা অভিযান দিয়ে অনেক সময় মাদক আটক করি। আসামি ধরতে না পারলে থানায় জানানো হয় না। আমাদের আটককৃত মাদক গুলো হেডকোয়ার্টারে প্রেরণ করে দেই।
 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি হিল্লোল রায় বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক কারবারিদের ধরতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। ২১ নভেম্বর উদ্ধার হওয়া ২৪২৯ বোতল মদ প্রাথমিক ভাবে দেখে বুঝা গেছে ভারতীয়। তবে কোন এরিয়া দিয়ে এসেছে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে গাড়ির চালক ও হেল্পার এবং আরো ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই আসামিদের ধরতে আমরা তৎপর রয়েছি।


 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জলিল/এসডি-৬৩১