অনেক চেষ্টা আর প্রতীক্ষার পর অবশেষে নৌকার টিকিট পেয়েই গেলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

রবিবার বিকাল চারটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নায়ক ফেরদৌসের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।


এবার অনলাইনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ফেরদৌস। এ জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং জমা দেওয়ার সময় তার দেখা মেলেনি।

জানা গেছে, ঢাকা-১০ ছাড়া আরও একটি আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন ফেরদৌস। যদিও সেই আসনটির কথা প্রকাশ করেননি তিনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকা-১৭ আসনের জন্যও মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নায়ক।

অভিনয়ের পাশাপাশি বহুদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ফেরদৌস। দলটির নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় সবসময়ই তাকে দেখা গেছে। দলে তার গুরুত্বপূর্ণ একটি পদও রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটির একজন সদস্য।

তবে শুধু পদ থাকলেই তো হলো না, এর বাইরে দলের ব্যানারে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী হওয়ার খায়েশও থাকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের। সেই ইচ্ছা বহুদিন ধরে ছিল ফেরদৌসেরও। তার জন্য একাধিকবার তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নও চেয়েছেন।

ফেরদৌসের জন্ম কুমিল্লায় হলেও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ফেরদৌস। যশোর সদর এলাকায় ফেরদৌসের শ্বশুরবাড়ি। তার স্ত্রী তানিয়া ফেরদৌসের বাবা মরহুম আলী রেজা রাজু ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি এই আসনের সংসদ সদস্যও ছিলেন। শ্বশুরের পরিবর্তে সে বার যশোর-৩ থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তারকা জামাই ফেরদৌস।

তবে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ছিলেন জনপ্রিয় এই তারকা। নিজের ইচ্ছার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ করলেও সে সময় মনোনয়ন ফরম কেনেননি অভিনেতা। বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে অবশ্যই নির্বাচন করব। তার সম্মতির উপরই সবকিছু নির্ভর করছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

কিন্তু সে বার সবুজ সংকেত পাননি ফেরদৌস। তাই যশোর-৩ সদর আসনের জন্য মনোনয়নও তোলেননি। এরপর চলতি বছরের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন ফেরদৌস। নায়ক ফারুকের মৃত্যুতে আসনটি শুন্য হয়েছিল।

জানা যায়, সে সময় আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের পরামর্শেই নায়ক ফেরদৌসের পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম তোলা হয়েছিল।

কিন্তু তখনও মনোনয়ন পাননি ফেরদৌস। ঢাকা-১৭ আসন থেকে সে সময় নৌকার মাঝি করা হয় মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে। তিনি জয়ীও হন। এই আসন থেকে আবারও আরাফাতই পেয়েছেন মনোনয়ন। অন্যদিকে, ফেরদৌস পেলেন ঢাকা-১০।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-৬৪৩


সূত্র : ঢাকা টাইমস