আগামী ১ ডিসেম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট অঞ্চলে এ পদে লোক প্রয়োজন ২ হাজার। তবে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৫২ হাজার ৪৭০ জন। ফলে সিলেটে একটি শূন্যপদের বিপরীতে লড়ছেন ২৬ জন।
 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসের হিসেব অনুযায়ী সিলেট বিভাগের চার জেলার ৫ হাজার ৫৪ টি বিদ্যালয়ে মোট ৩ হাজার ১২৪ জন শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬০টি প্রধান শিক্ষক ও ১ হাজার ৯৬৪ টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া বিভাগের ৪ জেলায় অফিস সহকারী, এমএলএসএস ও নৈশপ্রহরী সহ আরো সহস্রাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর পদ খালি রয়েছে।
 


বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, জুলাই মাসের হিসেবে অনুযায়ী সিলেট অঞ্চলে ২৫ হাজার ৭৮১ জন সহকারী শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ২৩ হাজার ৮১৭ জন। এরমধ্যে খালি রয়েছে ১ হাজার ৯৬৪ টি পদ। যদিও চলতি নভেম্বর মাসে শুন্যপদের সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
 

জানা গেছে, সিলেট জেলায় ৭ হাজার ৮৬৫ টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে শুন্য রয়েছে ৬৭০টি, সুনামগঞ্জে ৭ হাজার ২৫৪ টি পদের বিপরীতে শুন্য রয়েছে ৭৫১ টি, হবিগঞ্জে ৫ হাজার ৩২৪ টি পদের বিপরীতে শুন্য রয়েছে ২৪৬ টি ও মৌলভীবাজারে ৫ হাজার ৩৩৮ টি পদের বিপরীতে ২৯৭ টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।
 

এছাড়া সিলেট বিভাগে ৫ হাজার ৫৪টি প্রধান শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৩ হাজার ৮৯৪ জন। এরমধ্যে ১ হাজার ১৬০ টি পদ খালি রয়েছে। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ৩৩৫ টি, সুনামগঞ্জে ৩১০ টি, হবিগঞ্জে ২১৯ টি ও মৌলভীবাজারে ২৯৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।

সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৯৬৪টি সহকারী শিক্ষকের শুন্যপদের বিপরীতে এবার আবেদন করেন ৫২ হাজার ৪৭০ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে সিলেট জেলার ৬৭০টি সহকারী শিক্ষকের শুন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেন ১২ হাজার ৯৫৫ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় ৭৫১টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ১৫ হাজার ১০৭ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ২৪৬টি পদের বিপরীতে ১৩ হাজার ৬৪১ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ২৯৭টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ১০ হাজার ৭৬৭ জন।
 

একসাথে বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ খালি থাকায় পাঠদান চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষা কার্যক্রমে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুন্যপদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রথম ধাপে আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) আগামী ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। প্রথমে ২৪ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলে চলতি মাসের ৮ নভেম্বর সেই তারিখ পিছিয়ে ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। এদিকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্রুত ভাইভা নেওয়ার পর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এ ধাপের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
 

সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অবসরজনিত কারণে প্রতিমাসেই সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য হয়ে থাকে। তবে জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় শুন্যপদ আরো বেড়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।


 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর/এসডি-৬৬৪