“চড়ুইভাতি” নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ছোটবেলার আনন্দময় দিনগুলোর স্মৃতি। পাড়ার খেলার সঙ্গীরা মিলে চাঁদা ওঠানো, একেকজনের বাড়ি থেকে ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ নিয়ে রান্নার আয়োজন করা হতো। বাবুর্চি একজন, বাকিরা সবাই তাকে সহযোগিতা করত। আর যারা থাকত, তারা বিভিন্ন ধরনের মজার খেলায় মেতে উঠত।
 

ছেলেবেলার স্মৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে গত ২৫ নভেম্বর (শনিবার) মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে তেমনই একটি দিন অতিবাহিত করেছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। আয়োজন উপলক্ষে আগের দিনই প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী কিনে রাখা হয়। অপেক্ষা কেবল রাত পোহানোর। কারোরই যেন তর সইছিল না। দিনব্যাপী এ আয়োজনে বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
 


মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন এবং উপদেষ্টাদের মধ্যে সানজিদা চৌধুরী (সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ), মোঃ শের-ই-আলম (সহকারী অধ্যাপক , আইন ও বিচার বিভাগ), দেবাশীষ রায় (সহকারী অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ), ওয়াদিয়া চৌধুরী (প্রভাষক, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) এবং বিভিন্ন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন।
 

খাবারের তালিকায় ভাত, ডালের সাথে ছিল মুরগি ভুনা, শুঁটকির ভর্তা, পেঁপের বড়া, ফুলকপির বড়া, বেগুনের ভর্তাসহ হরেক রকমের ভর্তা। খাবার শেষে মিষ্টান্ন হিসেবে ছিল পায়েস। বন্ন্রাবন্ধুসভার  নিজ হাতে এগুলো প্রস্তুত করেন। রান্না শেষে অতিথিদের সাথে নিয়ে সবাই পেটপুরে খাওয়াদাওয়া করেন।
 

পরবর্তীতে পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ফারজানা বেগম চকদার এর সঞ্চালনায় বন্ধুসভার সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ আলোচনায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি প্রথমআলো বন্ধুসভার সভাপতি মো. আলী হায়দার অন্তর স্বাগত বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। পরবর্তীতে উপদেষ্টাগণ বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং বন্ধুসভার ভিন্নধর্মী কর্মকাণ্ড ও চড়ুইভাতি নিয়ে নিজেদের উৎসাহব্যঞ্জক অভিমত প্রকাশ করেন।
 

বিশ্ববিদ্যালয়য়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জামাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বন্ধুসভার নতুন নতুন নেতৃত্ব তৈরির জন্য ও বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার নির্মূলে কাজ করার পরামর্শ দেন।
 

প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থী জীবনে বন্ধুসভায় যুক্ত থাকার কথায় বন্ধুদের মধ্যে নতুন উৎসাহের সঞ্চার করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বন্ধুসভাকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও সংগঠনিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে হিসেবে অভিহিত করেন এবং গতানুগতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে শুদ্ধ ভাষা চর্চা,সংস্কৃতিক বিকাশ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখতে সক্ষম এমন কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে তিনি বন্ধুসভার সদস্যদের কাছ থেকে প্রধান অতিথির সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।


 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে/এসডি-৬৭৬