বিএনপির চলমান আন্দোলন সিলেটে এখন অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে। শহরে যানবাহন চলাচল দিনে দিনে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তবে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে দূরপাল্লার বাস আগের চেয়ে কম চলাচল করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিও পাল্টাচ্ছে কৌশল।

 



রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে কৌশলী ভূমিকায় মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে তাঁদের। পুলিশী ধরপাকড় শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চলছে বলে জানান বিএনপি নেতারা। গ্রেফতার এড়িয়ে মিছিল-পিকেটিং করে আন্দোলন চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন তারা।

 


দলীয় সূত্র জানায়, পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে বাসাবাড়িতে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছে। তাই গ্রেফতার এড়াতে বেশীরভাগ নেতাকর্মী ঘরবাড়ি ছেড়ে পলাতক জীবন যাপন করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে সিলেটে নানা কৌশলে রাজপথে সরব থাকছেন নেতাকর্মীরা। কখনো ভোর বেলা, সকাল আবার কখনো দুপুর বেলা কিংবা সন্ধ্যা বেলায় মিছিল, পিকেটিং এমনকি মশাল জ্বালিয়ে মিছিল করে সক্রিয় থাকছেন তারা।

 


তবে চলমান আন্দোলনে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী কার্যক্রম দেখা গেছে বুধবার (২৯ নভেম্বর)। একই সাথে নগরীর পৃথক পৃথক স্থানে চারটি মিছিল করতে দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীও মিছিল করেছে নগরীতে।

 


বুধবার (২৯ নভেম্বর) সকালে মহানগরীর টুকেরবাজারে সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমের নেতৃত্বে মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে। বেলা দুইটায় নয়াসড়ক এলাকায় মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়।

 


এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল, আনোয়ার হোসেন মানিক, মামুনুর রশিদ চেয়ারম্যান, শামিম আহমদ, ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন দিনার, ফজলে রাব্বী আহসান প্রমুখ। একই সময়ে নগরীর কাজীটুলা এলাকায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল বের হয়। এসময় ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শোয়েবুর রহমান শোয়েব, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন ইবনে রাজ্জাক রাসেল, যুবদল নেতা লিটন আহমদ, অলি আহমদ আলম, ছাত্রদল নেতা তুফায়েল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


ঠিক একই সময়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অবরোধের সমর্থনে চৌহাট্টা এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি রিকাবিবাজারে গিয়ে শেষ হয়।

 


আর বাদ যোহর নগরীর শিবগঞ্জে জামায়েতে ইসলামীও একটি মিছিল বের করে।

 


পৃথক পৃথক মিছিল শেষে পথসভায় বক্তারা অভিলম্বে ঘোষিত তফসিল বাতিল, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান। এবং বৃহস্পতিবারের হরতাল সফল করতে সিলেটবাসীর প্রতি আহবান জানান বক্তারা।

 


চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেটভিউকে জানান, শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সিলেটের রাজপথ দখল করে রাখছেন নেতাকর্মীরা। পুলিশি গ্রেফতার এড়িয়ে দিনভর খণ্ড খন্ড মিছিল, পিকেটিং করে অবরোধ-হরতাল সফল করতে নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

 


এদিকে বুধবার রাত ৮ টায় নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় যুবদল নেতা এমদাদুল হক স্বপনের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলে আগামীকালের হরতাল সফল করতে নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

 


এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর মিরাবাজারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খাঁন জামাল ও সদস্য সচিব শাকিল মোরশেদের নেতৃত্বে একটি মশাল মিছিল বের হয়। এছাড়া ঐ মিছিলের আধ ঘণ্টা পর কুমারপাড়া এলাকায় জেলা ও মহানগর ছাত্রদল বের করে মশাল মিছিল।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জুনেদ/এসডি-৭৫৮