ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের একটি সেভহোমে থাকা সিলেটের কিশোর লীল চন্দ্র শীল দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে লীল চন্দ্রকে হস্তান্তর করে ভারতীয় বিএসএফ ও ডাউকি ইমিগ্রেশন পুলিশ।


লীল চন্দ্র শীল (১৭) কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগর গ্রামের শিপন চন্দ্র শীলের ছেলে। সে মানসিক সমস্যায় ভূগছিল বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।



জানা গেছে, গেল ৫-৬ মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে লীল চন্দ্র নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পান সে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে রয়েছে। বিষয়টি তার বাবা শিপন চন্দ্র সিলেটের ব্র্যাক মাইগ্রেশনকে অবগত করলে কিশোর লীল চন্দ্রের অবস্থান সনাক্ত করা হয়।


ব্র্যাক মাইগ্রেশনের কর্মকর্তারা ‘ইম্পালস এনজিও নেটওয়ার্ক ভারত’ এর নজরে দেয়। পরে ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার রুহুল আমিনসহ হাই কমিশনের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে শিলং সেভহোমে থাকা শিশুর বাংলাদেশি নাগরিকত্ব যাচাই করে দেশে আসার ট্রাভেল পারমিট পাস প্রদান করেন।


ডাউকি ইমিগ্রেশন পুলিশ স্থানীয় বিজিবি ও বিএসএফসহ শিশুটির পিতা পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের (ইনচার্জ) রুনু মিয়ার নিকট হস্তান্তর করা হয়।


লিল চন্দের পিতা শিপন চন্দ বলেন, ‘আমার ছেলে গত দুই তিন বছর ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ, তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখতে হয়। না হয় সে পালিয়ে যায়।’


তিনি আরও বলেন, ‘গত জুলাই মাসে পায়ের শিকল খুলে সে পালিয়ে যায়, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায় নি। ১৭-১৮ দিন পর একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে বলে আমার ছেলে ভারতের মেঘালয়ে আছে।’

 

তিনি জানান, জাফলং জিরো পয়েন্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে সে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় পুলিশের কাছে সে আটক হয়। আটকের সময় বয়স ১৮ এর কম হওয়ায় লীল চন্দকে আদালতের নির্দেশে নিউ শিলং বয়েজ অবজারভেশন হোমে আটক রাখা হয় ।


সেখানকার কর্মকর্তা জোসেফাইন সুমার বলেন, ‘লীল চন্দ শীল মানসিকভাবে সুস্থ নন, তিনি আমাদের কেন্দ্র থেকেও একবার পালিয়ে গিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে আমরা তাকে বাংলাদেশে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলাম।"


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ-০৬