দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৪১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দুটি দলের প্রার্থী হিসেবে দুটি আসনে সাবেক দুজন সংসদ সদস্যও আছেন। তাঁরা হলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দেওয়ান শামসুল আবেদীন ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে শাহীনূর পাশা চৌধুরী।

 



রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) থেকে নোঙর প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনূর পাশা চৌধুরী।

 


মরমি সাধক হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান শামসুল আবেদীন বিভিন্ন সময়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ করেছেন। তিনি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসন (জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি ১৯৮৬ সালে নির্বাচন করেন জাতীয় পার্টি থেকে। পরে আবার বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ২০০৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে একই আসনে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু জয়ী হতে পারেননি।

 


দেওয়ান শামসুল আবেদীন সর্বশেষ বিএনএমে যোগ দেন। তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য উল্লেখ করে বলেন, ‘সুনামগঞ্জ-৪ আসনে আমি একাধিকবার নির্বাচন করেছি। এই নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রাম আমার পরিচিত। মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আমরা বুঝেশুনেই ভোটে অংশ নিচ্ছি।’

 


শাহীনুর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর এই উপনির্বাচন হয়। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই এখানে চারদলীয় জোটের শরিক হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শাহীনুর পাশা অংশ নেন, কিন্তু আর জয়ী হতে পারেননি।

 


এবার নির্বাচনের আগে নিজের দল ছেড়ে ২৬ নভেম্বর তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এর তিন দিন আগে তিনি কয়েকটি ইসলামী দলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাঁর দল প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ স্থগিত করে। এরপর তিনি নিজেই দল থেকে পদত্যাগ করে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন।

 


তৃণমূল বিএনপি থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে শাহীনুর পাশা চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। এ কারণেই নির্বাচন করছেন। তবে মানুষের মধ্যে কিছু ভীতি আছে। ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখবেন। যদি মনে হয় সুষ্ঠু ভোট হবে না, তাহলে নির্বাচনে থাকব না।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ প্রআ/ শাদিআচৌ-০১