ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ। এই দুই রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পানি বণ্টন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এবার এই সংকট গড়িয়েছে ভিন্ন মাত্রায়।

 


শনিবার (২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে প্রতিবেশী রাজ্য তেলঙ্গানায় ঢুকে পড়ে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের একটি দল। দ্রুত কৃষ্ণা নদীর নাগার্জুন সাগর বাঁধের দখল নেয় তারা। এরপর বাঁধের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আপত্তি উড়িয়ে খুলে দেয় বাঁধের গেট। ছেড়ে দেয় কয়েক হাজার কিউসেক পানি।


বুধবার রাত ২টা নাগাদ অন্ধ্র পুলিশের এই অভিযান ঘিরে এরই মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তেলঙ্গানায়। বৃহস্পতিবার সে রাজ্যে ছিল বিধানসভা ভোট। রোববার গণনা। তার আগেই প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অন্ধ্র পুলিশ ‘অপারেশন’ চালিয়েছে বলে অভিযোগ। অন্ধ্র পুলিশের ৫০০-রও বেশি কর্মকর্তা ও কনস্টেবল ‘বাঁধ দখল অভিযানে’ নেমেছিলেন।


তেলেঙ্গানার মুখ্যসচিব শান্তি কুমারী বলেন, বাঁধের সিসিটিভি ভেঙে, জোর করে ৫ ও ৭ নম্বর লকগেট খুলে খালে পানি ঢুকিয়েছে অন্ধ্র পুলিশ। বেআইনিভাবে প্রায় ৫ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। ঘটনার জেরে নলগোন্ডা, মেহবুবনগর, নগরকুর্নুলের মতো দক্ষিণ তেলঙ্গানার জেলাগুলোতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কৃষ্ণা নদী পরিচালন পর্ষদের অভিযোগের জেরে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ২৮ নভেম্বরের আগেকার ‘স্থিতাবস্থা’য় ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে অন্ধ্র সরকারকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা দু’রাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৃহস্পতি এবং শুক্রবারের বৈঠকে প্রস্তাব দেন, ভবিষ্যতে অশান্তির সম্ভাবনা এড়াতে নাগার্জুন সাগর বাঁধের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফের হাতে তুলে দেওয়া হোক। দু’ রাজ্যই তা মেনে নিয়েছে।


যদিও কংগ্রেস পরিচালিত অন্ধ্র সরকারের সেচমন্ত্রী অম্বাতি রামবাবুর দাবি, দ্বিপাক্ষিক পানিবণ্টন চুক্তি মেনেই পানি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করিনি। কৃষ্ণার পানির ৬৬ শতাংশ অন্ধ্র প্রদেশের ও ৩৪ শতাংশ তেলেঙ্গানার প্রাপ্য। আমরা এক ফোঁটা পানিও ব্যবহার করিনি যা আমাদের প্রাপ্য নয়।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/নাজাত