গত কয়েক মাস ধরে সিলেটি সব বয়েসি মানুষেরই মাঝে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতা প্রবল হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত জীবন গড়ার প্রত্যাশায় তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীরা ছুটছে স্বপ্নের ইউরোপের কোনো দেশে।


এ অবস্থায় ইউরোপের দেশগুলোতে বৈধ অভিবাসনের ভালো সুযোগ রয়েছে সিলেটিদের। তবু চলছে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা।



এক সময় ডিভি ভিসা দিয়ে সিলেটিদের মাঝে আমেরিকা যাওয়ার ব্যাপক প্রবণতা ছিলো। এখন বাড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতা। শিক্ষা, উন্নত জীবন এবং ভালো আয়ের জন্যই এই প্রবণতা। কিন্তু অনেকেই না জেনে অবৈধভাবে বা দালালদের মাধ্যমে বিকল্প পথে, বিশেষ করে তৃতীয় দেশ হয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢোকার চেষ্টা করে নিজেরা বিপদে পড়ছেন, বিপাকে ফেলছেন পরিবারকেও।


এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইটালিতেই বৈধভাবে সবচেয়ে বেশি সিলেটিরা রয়েছেন। তবে গত দুই বছরে দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢুকে আশ্রয়প্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে সিলেটির সংখ্যা বেশি।


অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক জানায়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েই অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা) করেন সিলেটিরা। বর্তমানে বিষয়টি করা হয় সবচেয়ে বেশি ইটালিতে। এরপর ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস ও পর্তুগাল।


অভিবাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন জানান- ‘ইউরোপের মধ্যে বেস্ট হচ্ছে ইংল্যান্ড৷ সেখানে এখন পাঁচ বছরে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। বাবা-মা বাংলাদেশি হলেও সেখানে জন্ম নেয়া তাদের সন্তানরা এখন সহজেই ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেয়ে যেতে পারে। পড়াশুনা করতে গিয়ে চার বছর থাকার পর কোনো চাকরিতে ঢুকলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। আর বাংলাদেশি টাকায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে নাগরিকত্ব অল্প সময়েই পাওয়া যায়।


তিনি বলেন- পর্তুগাল এবং গ্রিসও বিনিয়োগ ক্যাটাগরিতে নাগরিকত্বের সুযোগ দিচ্ছে বর্তমানে। সেখানে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ দেখাতে হয়। এই বিনিয়োগ বাড়ি কেনা বা অন্য কোনো খাতে হতে পারে। তবে এত টাকা ব্যবসায়ী বা ধনী ছাড়া সম্ভব নয়। যাদের দ্বিতীয় একটা পাসপোর্ট দরকার হয় তারা এই সুযোগ নেন। ফলে পড়াশুনা করতে গিয়ে নাগরিত্ব নেয়াই সহজ। খরচ অনেক কম। আর ইটালিতে অনেক বছর কাজ করতে করতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।


ব্র্যাক সূত্র জানায়, যারা নানা কাজ আর উচ্চ বেতনের কথা বলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে লোক পাঠায়, তারা আসলে নিজেরাই জানে না ওইসব দেশে কোন ধরনের লোকের কাজের বা থাকার-সুবিধা আছে। তারা আসলে পুরো কাজটাই করে প্রতারণার জন্য, মানুষকে ঠকিয়ে টাকা আয় করার জন্য।


সাবরিনা জেরিন আরও জানান- ইউরোপের বাইরে কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ থেকেই আবেদন করে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। পয়েন্ট সিস্টেম আছে। নানা দক্ষতা এবং অবস্থার জন্য পয়েন্ট নির্ধারণ করা আছে। ছয় মাসের মধ্যেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ায়। তারপর একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর ওই দেশে গিয়ে থাকতে হয় নাগরিকত্ব বহাল রাখার জন্য। ক্যানাডায় তিন বছরের মধ্যে আর ইউরোপের দেশগুলোতে পাঁচ বছরের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়।


এছাড়া এশিয়া মহাদেশের আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায়ও বিনিয়োগকারী হিসেবে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ আছে সিলেটিদের। আরব আমিরাতে মাত্র পাঁচ হাজার ডলারে রেসিডিন্ট পারমিট পাওয়া যায়। তবে ব্র্যাকের পরামর্শ- না জেনে, না বুঝে ঝাঁপ দেওয়া ঠিক নয়। নিজের দক্ষতা আর যোগ্যতা বিবেচনা করেই বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অবৈধভাবে প্রবেশ করলে অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর