‘বুর্জ আল আরব’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বিশ্বের একমাত্র ১০ তারকা হোটেল। এটি বিশ্বের ৭ম সুউচ্চ হোটেল, যদিও এর মোট উচ্চতার ৩৯ শতাংশ অংশ অব্যবহৃত। সমুদ্রের তীর থেকে ২৮০ মিটার সমদ্রের ভেতরে কৃত্রিম একটি দ্বীপের উপর এটি নির্মাণ করা হয়েছে। একটি সেতুর মাধ্যমে হোটেলটি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত। আরবের পুরনো পালতোলা জাহাজের কাঠামোর অনুকরণে বানানো ভবনটি আরবের ঐতিহ্যের প্রতিনিধি। আরব আমিরাতের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি শাসক শেখ নাহিয়ানের পারিবারিক সম্পত্তি বুর্জ আল আরব।

 



১৯৯৯ সালে তৈরি হোটেলটি ঐ বছরের ১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়েছিল। আরবেরই এক হোটেল সংস্থা বুর্জ আল আরব হোটেলটি তৈরি করেছে। দুই যুগ আগে বুর্জ আল আরব হোটেল তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ১০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১১২০ কোটি টাকা।

 


বুর্জ আল আরব দেখতে অনেকটা জাহাজের পালের মতো। হোটেলের মধ্যে মোট ১৯৯টি বিলাসবহুল কামরা রয়েছে। হোটেলের সব চেয়ে ছোট কামরার আয়তন ১৬৯ বর্গমিটার এবং সব থেকে বড় কামরাটির আয়তন ৭৮০ বর্গমিটার। হোটেলের প্রতিটি কক্ষ থেকেই সমুদ্র দেখা যায়। প্রতিটি কক্ষেই রয়েছে কাচের দেয়াল। এ ছাড়াও প্রতিটি কক্ষে রয়েছে অত্যাধুনিক গ্যাজেট। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, দেয়াল জোড়া টিভি, স্পিকার তো রয়েইছে। বিশ্বের যে কোনও বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে গেলেই এই সুবিধা মেলে। তবে বুর্জ আল আরব আরও অনেক সুবিধা রয়েছে, যা অন্যান্য হোটেল চট করে পাওয়া যায় না।

 


বুর্জ আল আরব হোটেলে মোট আটটি রেস্তরা রয়েছে। প্রতিটি রেস্তরাতে আলাদা আলাদা পদ তৈরি হয়। রেস্তরার অন্দরে রয়েছে একটি বিলাসবহুল স্পা। হোটেলের নীচে বিভিন্ন ধরনের পানি ক্রীড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। হোটেলের মাঝামাঝি ‘মেরিনা গার্ডেন’ নামে একটি বড় বারান্দা রয়েছে। সেই বারান্দাতে দুটি সুইমিং পুল, ৩২টি আরাম করার জায়গা, একটি রেস্তরাঁ এবং একটি পানশালা রয়েছে। ৬৫৬ ফুট উঁচু হোটেলটির ছাদেও একটি পানশালা রয়েছে। তবে অতিথিরা চাইলে সেখানে বসে গল্পও করতে পারেন। হোটেলের মধ্যে আলাদা করে জিম এবং খেলাধুলোর জায়গা রয়েছে। রয়েছে ছোটখাট একটি হাসপাতালও।

 


হোটেলটিতে অতিথিদের আপ্যায়নের দিকে বিশেষ নজর দেয়া হয়। হেলকপ্টারে বা বহুমূল্য গাড়িতে চাপিয়ে অতিথিদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য হোটেলের ছাদেই হেলিপ্যাড রয়েছে। হোটেল থেকে কোনও অতিথি বাইরে ঘুরতে গেলেও হোটেলের তরফে তাঁর জন্য বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। হোটেলের তরফে প্রত্যেক অতিথির জন্য আট জন করে ব্যক্তিগত সহায়কের ব্যবস্থা করা হয়। ২৪ ঘণ্টা হোটেলকক্ষের সামনেই থাকেন তারা। যখন যা প্রয়োজন, হাতের কাছে এনে দেন।

 


কিন্তু যে হোটেলে এত সুযোগসুবিধা, এত আরাম, সেই হোটেলে থাকার খরচ কত? সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুর্জ আল আরবে এক দিন থাকতে সর্বনিম্ন দুই লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। সব থেকে দামি কক্ষে থাকার খরচ আরও অনেক বেশি। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। বুর্জ আল আরবে সারা বছর যত অতিথি আসেন, তাদের মধ্যে চিনের পর্যটকদের সংখ্যা বেশি।

 


ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর বিলাসবহুল ভ্রমণ বিষয়ক ম্যাগাজিন,আলট্রা ট্রাভেল-এর পাঠকদের ভোটে ‘বুর্জ আল আরব’ পৃথিবীর একটি বিলাস বহুল হোটেল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। হোটেলটি ‘বেষ্ট হোটেল ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘বেষ্ট হোটেল ইন দ্য মিডল ইষ্ট’ ক্যাটাগরিতে খুব সম্মানজনক দুটি পুরস্কার পেয়েছে। নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/মিআচৌ