ইন্টার মায়ামির হয়ে হংকং একাদশের বিপক্ষে দেশটিতে খেলার কথা ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির। ইনজুরির কারণে তিনি ম্যাচটি খেলতে পারেননি। তবে এর তিনদিন পরই জাপানের ক্লাব ভিসেল কৌবের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। যা নিয়ে বেজায় ক্ষেপেছে হংকং ও চীন সরকার। ওই ঘটনার জল এবার গড়াল আর্জেন্টিনার নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচ পর্যন্ত। দুটি আফ্রিকান দেশের সঙ্গে ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও, সেগুলো বাতিল করেছে চীন।
 

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, চীন কর্তৃপক্ষ আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। হংকংয়ে মায়ামির হয়ে খেলার কথা থাকলেও, মেসি না খেলায় এই সিদ্ধান্ত। আগামী মার্চে হাংজুতে নাইজেরিয়া এবং বেইজিংয়ে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
 


মূলত মাংসপেশীর ইনজুরির জন্য হংকং একাদশের বিপক্ষে মায়ামির প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি মেসি। অন্তত তিনি নিজে সেই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। তবুও ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে মাঠে দেখতে মুখিয়ে থাকা ভক্তরা বিষয়টি মানতে পারছেন না। সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে তিনদিন পরই ফের মেসি জাপানে খেলতে নামায়। চীন জুড়ে সেজন্য প্রচুর সমালোচনা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে মেসির জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজনও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে দেশটি।
 

এ নিয়ে আজ (শনিবার) বেইজিং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ‘এই মুহূর্তে লিওনেল মেসি অংশগ্রহণ করবেন, এরকম কোনো ম্যাচ আয়োজন কিংবা পরিকল্পনাও করতে পারছে না বেইজিং।’ ওই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার।
 

এর আগে শুক্রবার হাংঝুতে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ বাতিল করা হয়েছিল। যা নিয়ে আয়োজকরা জানিয়েছিল, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, যেগুলো সবাই জানে, কর্তৃপক্ষের মতে প্রীতি ম্যাচটি আয়োজনের জন্য যথাযথ পরিবেশ নেই। যে কারণে ম্যাচটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’
 

উল্লেখ্য, হংকং কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল— মেসি অন্তত ৪৫ মিনিট খেলবেন, এমনটাই ছিল ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তির শর্ত। তবে ইনজুরির কারণে সেটা হয়নি। এজন্য আয়োজকদের পূর্ণ অর্থ না দেওয়ার কথাও তুলেছিল সরকারপক্ষ। সমস্যা এতই প্রকট আকার ধারণ করে যে, মেসি নিজে সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। এতটুকুই হয়ত যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ইন্টার মায়ামি যেন ছাইচাপা আগুন উসকে দিল নিজেরাই। জাপানে ভিসেল কোবের বিপক্ষে ম্যাচে ঠিকই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। এতেই যেন আহত সকলে।

কিংবদন্তি মেসিকে দেখতে টিকিটপ্রতি ন্যূনতম ১২৫ ডলার খরচ করেছিলেন হংকংয়ের ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকে চীন থেকেও উড়ে গিয়েছিলেন। সবমিলিয়েই হতাশা ভর করেছে হংকংয়ে। দেশটির সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন ব্যুরো তাদের বিবৃতিতে বলেছিল, চোটের কারণে মেসি হংকংয়ে খেলতে না পারায় ভক্তদের মতো তারাও ভীষণ হতাশ। এরপরই জাপানে খেলার প্রসঙ্গ টেনে তাদের মন্তব্য, ‘তিন দিন পর মেসিকে জাপানে কোনো সমস্যা ছাড়াই খেলতে দেখা গেল। সরকার আশা করছে, আয়োজক পক্ষ এবং দল এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেবে।’


 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-৮৩৪


সূত্র : ঢাকাপোষ্ট