জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ পেমেন্ট কার্ড। এই কার্ড দিয়ে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা নানা সুবিধা পাবেন। এ বছর জার্মানি আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ক্রেডিটসহ পেমেন্ট কার্ড চালু করবে।

 



বেশ কয়েকটি জার্মান রাজ্য আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের পেমেন্ট কার্ড হস্তান্তর শুরু করার আশা করছে। জার্মান প্রেস এজেন্সি ডিপিএ বলছে, কার্ডগুলি এই গ্রীষ্ম বা শরৎ থেকে কার্যকর হতে পারে৷

১৬টি রাজ্যের মধ্যে ১৪টি জার্মান রাজ্যই আশ্রয়প্রার্থী ও উদ্বাস্তুদের জন্য এই প্রি-পেইড কার্ড চালু করতে চাইছে৷ শুধু বাভেরিয়া ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেকলেনবুর্গ-ফরপোমার্ন বিকল্প স্কিম চালু করছে। এই রাজ্য দু’টির নেতারা ভিন্ন পেমেন্ট কার্ড চালুর কথা বিবেচনা করছেন।

 

কার্ডগুলো কী ভুমিকা রাখতে পারে?
জার্মানির থুরিঙ্গিয়া রাজ্য সংসদের এক রাজনীতিবিদের বরাতে স্থানীয় সংবাদপত্র রয়েটলিঙ্গার জেনারেল আনসাইগার লিখেছে, ‘পেমেন্ট কার্ডগুলো পাইলট প্রকল্পভিত্তিক হতে পারে৷’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই রাজনীতিবিদ দাবি করেছেন, তিনি ‘শরণার্থী সার্কেল’ থেকে কার্ড সম্পর্কে কোনও অভিযোগ পাননি।

কার্ডের প্রবর্তন কোনো কোনো অভিবাসীকে চাকরি খুঁজতে এবং বাকিদের নিজ দেশে ফিরে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে দাবি করেছে সংবাদপত্রটি৷ 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে এটিই অর্জন করতে চাইছিল রাজ্যটি৷ 


পেমেন্ট কার্ডগুলো তৈরির পেছনে একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো, এটি নিশ্চিত করা যে, রাষ্ট্র সমর্থিত ব্যক্তিরা এই অর্থ যে কাজে দেয়া হচ্ছে সে কাজে যেন ব্যবহার করেন৷ যেমন, তাদের সাপ্তাহিক মুদির দোকানের খরচ কিংবা জার্মানিতে চলার জন্য৷ বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।


আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সহজ করা
তাত্ত্বিকভাবে, পেমেন্ট কার্ডগুলোশুধু সুপারমার্কেটের মতো নির্দিষ্ট দোকানে ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি কোনো আশ্রয়প্রার্থীর রাষ্ট্রকর্তৃক নির্ধারিত মৌলিক চাহিদার বাইরে অন্য কারণে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি যেন চাকরি খুঁজতে উৎসাহিত হন৷ 

সমাজতান্ত্রিক এসপিডি দলের লোয়ার সাক্সনির নেতা স্টেফান ভাইল বার্তা সংস্থা ডিপিএকে বলেন, তিনি মনে করেছিলেন কার্ড প্রবর্তন ‘জার্মান আমলাতন্ত্রের উপর চাপও হালকা করবে৷’

ভাইল বলেন, কার্ডগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের সন্ধানে উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে যাতে তারা নিজেরাই উপার্জন করে নিজের বাড়তি প্রয়োজন মেটাতে পারেন৷ 


আরো গবেষণা প্রয়োজন
জার্মান সংস্থা আইএফও সেন্টার ফর মাইগ্রেশন রিসার্চের পরিচালক পুটফারা গত নভেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অভিবাসীরা তাত্ত্বিকভাবে তাদের কার্ড দিয়ে সিগারেট বা দামি খাবার কিনে তা আবার লাভে বিক্রি করার চেষ্টা করতে পারেন৷ 

‘সে কারণে, আমি মনে করি কার্ডগুলো কোনো অল্প প্রভাবই রাখতে পারবে’- বলেন তিনি৷ 

তিনি যোগ করেন, যদি কার্ডগুলো প্রবর্তন করা হয় তারা আসলে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তা আরও গবেষণা করে দেখা দরকার৷ 


অন্যান্য সমাধান
পুটফারা বলেন, যাদের আশ্রয় পাবার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের আরো দ্রুত আশ্রয় দেয়া উচিত, যাতে তারা তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করতে পারেন৷

ভাষাশিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত যাতে তারা দ্রুত একীভূত হতে পারেন৷ তার সহকর্মী ইফোনে গিয়েসিং বলেন, তারা এসব প্রশিক্ষণের পর যেন চাকরির বাজারে যে হাজার হাজার শূন্যপদ রয়েছে তা পূরণ করতে পারেন৷ 

গিয়েসিং বলেন, আরেকটি সহায়ক কৌশল হবে আশ্রয়প্রার্থী ও উদ্বাস্তুদের উপর বসবাসের বিধিনিষেধ সহজ করা, যাতে তারা যেখানেই প্রয়োজন সেখানে কাজ খোঁজার জন্য যেতে পারেন৷ তাদের যেন শুধু যে অঞ্চল তাকে সমর্থন দিচ্ছে, সেখানেই শুধু থাকতে না হয়৷ 

কোনো কোনো রাজ্যে নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা প্রয়োজন৷ যেমন, সেবা খাত৷ জার্মান রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, কোন কোন রাজ্যে নার্স ও সহযোগিতাকারীদের শুধু ঐ রাজ্যে কাজ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে৷ 

কিছু ক্ষেত্রে, জার্মান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারসংস্থা এআরডি রিপোর্ট করেছে, যোগ্য নার্সদের কম বেতনে এবং কম দায়িত্বে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল যতক্ষণ না তারা নতুন রাজ্যে নার্স হিসাবে নিবন্ধিত হতে পারেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত