সুনামগঞ্জের শাল্লায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে মাটির বদলে বালু দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষেতি স্থানীয় এক সাংবাদিক বাঁধ পরিদর্শনে গেলে শাল্লা ইউপি সদস্য বলেন, ইউএনওরে কইও মেম্বারে কইছে বালু-মাটি পড়ব বান্ধে (বাঁধে)। শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিয়াউর রহমান ফসল রক্ষা বাঁধ বালু মাটি দিয়ে নির্মাণ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন। এমন একটা ভিডিও রেকর্ড এসেছে সিলেটভিউয়ের হাতে।

 



ভিডিওতে বলতে শুনা যায়, স্থানীয় এক সাংবাদিক বালু মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ না করতে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অনুরুধ করনে। তখন তিনি বলেন, আমি বালু দিয়েই বাঁধ নির্মাণ করবো। পারলে তুমি গিয়ে ঠেকাও। তখন সাংবাদিক বলে আমি কেন ঠেকাত যাবো আপনি জনপ্রতিনিধি হয়ে এমন অবৈধ কাজ করতে পারেন না। ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, আমি অবৈধরে বৈধ করবো তোমার সমস্যা কি?

একপর্যায়ে ঐ রিপোর্টার বলেন, আমি বিষয়টা ইউএনও স্যারকে অবগত করবো তখনি ইউপি সদস্য বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলো আমি মেম্বার বলছি এই বাঁধে বালু মাটিই পড়বে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৬৪ নাম্বার প্রকল্প উপজেলার ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের আওতায় শ্রীহাইল জোয়ারিয়া হতে নোয়াবাজারের ভাঙ্গা পর্যন্ত মোট ৯৭৫.০০ মিটার বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ হয় প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি মহারাজ মিয়া ও সদস্য সচিব মহিদুল মিয়া ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানের আপন ভাতিজা। তবে এলাকায় চাউর রয়েছে প্রভাব খাটিয়ে নামে বেনামে একাধিক ফসল রক্ষা বাঁধের মালিক ঐ ইউপি সদস্য। প্রকল্প নম্বার ৬০ এর সভাপতি ক্ষুদ ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান এবং প্রকল্প নম্বর ৬৬ এর সভাপতি জিয়াউর রহমানের আপন চাচাতো ভাই।

 

স্থানীয় শ্রীহাইল গ্রামের বাসিন্দা হেকমত আলী বলেন, এই মাটি কোন কাজের না। বৃষ্টি হলেই ধ্বসে পড়বে। এটা সরজমিনে এসে দেখে যান।এখানে সম্পুর্ন বাঁধ বালু মাটি দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। প্রশাসন এসে দেখুক বাঁধে উপযুক্ত মাটি হলে আমাদের আপত্তি নাই।অন্যতায় বালু মাটি অপসারণ করে ভালো মাটি দিয়ে বাঁধ মেরামত করে হাওরের সুরক্ষা দেওয়া হোক।

 

সাংবাদিক তারেক মিয়া জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাঁধ পরিদশনে গিয়ে সত্যতা পাই। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানকে অবগত করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, বালু-মাটি দিয়েই কাজ হবে। পারলে তুমি ঠেকাও। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।


ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, সে (সাংবাদিক) আমাকে আগে উত্তেজিত করেছে। পরে রাগের মাথা বলে ফেলছি। এটা আমার ঠিক হয়নি।

 

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা ও উপজেলা কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব রিপন আলী বলেন, আমি সুনামগঞ্জে মিটিং যাচ্ছি আজকে সন্ধ্যায় আমি উনাকে ডাকবো। বালু অপসারণ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহসান মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


সিলেটভিউ২৪ডটকম /আমির/ নাজাত