আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দেবী সরস্বতীর পূজা। আর সেই লক্ষ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার  মৃৎশিল্পীরা।
 

সরেজমিনে দিরাই পৌরসভার শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, ৪/৫ জন মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে প্রতিমা তৈরিতে। কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি ও প্রলেপ দেওয়ার প্রাথমিক কাজ  অনেকটা গুছিয়ে আনলেও যেন দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। ছোট, বড়, মাঝারি সবমিলিয়ে প্রায় ৪৮টি প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন তারা।
 


শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দিরে মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন আচার্য বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এখানে ১৭ হাজার ১৫ হাজার ১০ হাজার ৩/৪ হাজার টাকা দরের প্রতিমা তৈরী করা হয়েছে। বেশি অংশ প্রতিমা অর্ডারে তৈরী করা বলে তিনি জানান।
 

শিবু আচার্য বলেন, রাত পোহালে সরস্বতী পূজা তাই দিনরাত কাজ করে শেষ করতে পারছিনা এবছর পূজার চাহিদা বেশি তাই অর্ডারও পেয়েছি বেশি।

মজলিশপুর গ্রামের শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ মিশনে প্রতিমা তৈরীতে কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী আনন্দ মোহন পাল বলেন, এবার বিভিন্ন সাইজের সরস্বতীর প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। কিছু বায়না নেওয়া, আবার কিছু প্রতিমা বানানো থাকে। যাতে শেষ মুহূর্তে বায়না না দিয়েও প্রতিমা কিনতে পারেন পূজারিরা।
 

তিনি বলেন, এবছর বড় প্রতিমা তৈরী করেছি বেশি।কিন্তু এখনও কাজ শেষ করতে পারিনি তাই গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

দিরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ধনীর রঞ্জন রায় বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বাসাবাড়িতে,ধর্মীয় সংগঠনের আয়োজনে দিরাই প্রায় ৭শ থেকে ৮শ পূজা মণ্ডপে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হবে।আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে জাঁকজমক পরিবেশে কোন রকম বাধাবিপত্তি ছাড়াই পূজা সম্পন্ন হবে।
 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় দিরাই পৌরসভার জগন্নাথ পূজা সংঘ, নবপূজ্য সংঘ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পলিটেকনিক ইস্টিটিটিউট, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, দিরাই সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত বছরের ন্যায় এ বছরও পূজার আয়োজন করছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/হিল্লোল/এসডি-৮৭৪