সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে এখন পর্যন্ত আউট-ডোরে সেবা নিয়েছেন ৩৩০ জন রোগী।


৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ ৩৩০ জন সেবা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ওসমানী হাসপাতালে খুলেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার দুয়ার। এতে কমেছে আউট-ডোরে রোগীদের দীর্ঘ লাইন, কমেছে ভোগান্তি।


 

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেটভিউ-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক সৌমিত্র চক্রবর্তী।

 

 

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন সিস্টেম’ চালু হয়  ওসমানী হাসপাতালে।  এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

 

 

সৌমিত্র চক্রবর্তী জানান,  গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিওএমসিএইচ পেসেন্ট পোর্টাল (SOMCH Patient Portal) অ্যাপ  ব্যবহার করে ৫২৭ জন রোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন, আর টিকেট কেটেছেন ৩৪৫ জন। এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সেবা নিয়েছেন ৩৩০, আর মোট প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে সেবা নিয়েছেন ২৭৪ জন রোগী।

 

তিনি আরও জানান, যেসব রোগী এই সেবার আওতায় এসেছেন তাদের যাবতীয় সব তথ্য আমাদের ডাটাবেজে রেকর্ড রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পক্ষে সঠিক সেবা প্রদান সহজ হচ্ছে। রোগীরাও উপকৃত হচ্ছেন। বর্তমানে আমরা সকল রোগীর কাছে এই প্রকল্পের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

জানা গেছে, আগামী দুইবছর পাইলট প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। পরে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি এই সেবার নিয়ন্ত্রণ কাজ করবে।

 

সিলেটকে স্মার্ট সিটি করতে ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’নামে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলো বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। এই প্রকল্পের আওতায়  ওসমানী হাসপাতালে ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন সিস্টেম’  চালু করা হয়। এর মাধ্যমে হাসপাতালে আগত সকল রোগীর ই-হেলথ রেকর্ড থাকবে। রোগীর সকল তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এ কাজে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় হয়।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অটোমেশনের আওতায় শুধুমাত্র রোগীদের তথ্য নয়; ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টও করা হবে। এতে অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে। এছাড়া টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রমও চালু হবে। যার মাধ্যমে ফোনে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারবেন যে কেউ।

 

সিলেট বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ওসমানী হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ৯০০। তবে প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ শত রোগী ভর্তি থাকেন। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন আরও প্রায় দুই হাজার রোগী। অভিযোগ আছে নানা অব্যবস্থাপনায় সেবা থেকে বঞ্চিত হন রোগীরা। বিশেষ করে নার্স, আয়া এমনকি সিকিউরিটি গার্ডের দ্বারাও হয়রানীর শিকার হতে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। এতে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। তবে এবার হাসপাতালটিতে যুক্ত হওয়া ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু হওয়ায় খুশি রোগী ও তাদের স্বজনরা।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / মাহি