হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে নির্ধারিত বরাদ্দের ছেয়ে দ্বিগুন বানিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- সহকারি প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম হোসেন সহ ৪ জনের বিরুদ্ধের আদালতে মামলা করেছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন।
 

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকালে জেলার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য জেবেল মিয়া।
 


এ মামলায় অন্যন্য আসামীরা হলেন- উপজেলার বাঁধের কাজের ২৭ নং পিআইসির সভাপতি মো. জগলু মিয়া ও ২৮ নং পিআইসির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
 

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, হাওরের বোরো ধান রক্ষায় সরকার প্রতিবছর অস্থায়ি বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এবছরও দিরাই উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের জলডোপ বাঁধের কাজের জন্য ২৭ নং পিআইসিতে ১৫ লক্ষ ১৮৩৪৪ টাকা ও ২৮ নং পিআইসিতে ১৪ লক্ষ ৮৭৯৬ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ণ বোর্ড। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দিরাই উপজেলা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- সহকারি প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম হোসেন এই দুটি বাঁধের মধ্যে ২৭ নং পিআইসির বরাদ্দের টাকা ৩১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা ও ২৮ নং পিআইসির বরাদ্দের টাকা ৩৭ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা করে দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে মামলা হামলাসহ প্রাণনাশেরও হুমকি প্রদর্শন করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

এছাড়া পিআইসির নীতিমালা না মেনেই যাদের জমি নেই বাঁধের পাশে তাদের দিয়ে বাঁধের কাজ করানোসহ এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ শেষ না করার বিষয়টিও মামলা উল্লেখ্য করেন বাদী।
 

এ বিষয়ে মামলার বাদী জেবেল মিয়া বলেন, দিরাইয়ে দুইটি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে টাকা ইউএনও, পাউবোর এসও মিলে বরাদ্দ দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যেখানে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রথমে দেয়া হয়েছিলো সেখানে তারা ৩১ লক্ষ ৭১ হাজার এবং আরেকটিতে ১৪ লক্ষের জায়গায় ৩৭ লক্ষ টাকা করে টাকা আত্মসাতের পায়তারা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পিআইসির লোকেরা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে প্রাণ নাশের পর্যন্ত হুমকি প্রদর্শন করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমি আজকে মামলা করেছি আশা করি ন্যায় বিচার পাব। আমরা কৃষকের স্বার্থে কাজ করা সংগঠন কৃষকের উপর নির্যাতন জুলুম এবং তার স্বপ্নে ফসল নিয়ে কাউকে খেলার সুযোগ দিব না।
 

এ ব্যাপারে জানতে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকারকে একাধিকবার মঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শহীদনূর / নাজাত /এসডি-১৪২৬