শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী  ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবী’র বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই পূজা অনুষ্ঠান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩০নং ওয়ার্ডের জৈনপুর, দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে অনুষ্ঠিত হবে।
 

অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে- ১৫ এপ্রিল সোমবার মহাসপ্তমীতে সকাল ৮টায় শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর বিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, ভোগরাগ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে এবং দুপুর ২টায় মাতৃসঙ্গীত পরিবেশনা।


 

১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার মহাঅষ্টমীতে সকাল ৮টায় শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর বিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, ভোগরাগ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। দুপুর ১টায় ধর্মসভা; বিষয়: সতীপীঠের মাহাত্ম্য সম্পর্কে আলোচনা। বিকেল ৩টায় মাতৃসঙ্গীত পরিবেশনা ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হরিনাম সংকীর্ত্তন।

১৭ এপ্রিল বুধবার মহানবমীতে সকাল ৮টায় শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর বিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, ভোগরাগ। দুপুর ১টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ, দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মাতৃবন্দনা ও হরিনাম সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হবে। মহাঅষ্টমী ও মহানবমীতে প্রতিশ্রুত কীর্ত্তনায়াবৃন্দ হলেন- শ্রী বিদ্যুৎ দাস-ব্রজবালক সংঘ; সিলেট, শ্রী বিধু চন্দ্র চন্দ-জয়রাধে যুবসংঘ; গোয়াইনঘাট, সিলেট ও শ্রী মুক্তপদ তালুকদার-হরিভক্ত সম্প্রদায়; দিরাই, সুনামগঞ্জ।
 

১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দশমী বিহিত পূজা শেষে অনুষ্ঠান সমাপন। শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবী’র মন্দিরের উন্নয়ন কাজে যে কেউ সহায়তা করতে চাইলে-শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবাপীঠ শ্রীহট্ট, চলতি হিসাব নং ৫৬২১০০১০০৫০২৯, সোনালী ব্যাংক, মহাজনপট্টি শাখা, সিলেটে অর্ঘ্য জমা দেওয়া যাবে।

বার্ষিক পূজানুষ্ঠানে সর্বস্তরের ভক্তবৃন্দকে উপস্থিত থাকার জন্য শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক জনার্দন চক্রবর্তী মিন্টু বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
 

উল্লেখ্য, সত্য যুগে দক্ষ রাজা কর্তৃক যজ্ঞ অনুষ্ঠানে দেবাদিদেব মহাদেব (জামাতা)-কে আমন্ত্রণ না করায় এবং পতিনিন্দা সহ্য করতে না পারায় দক্ষকন্যা সতীদেবী দেহত্যাগ করলে মহাদেব সেই সংবাদ শুনে মৃত সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয়নৃত্য শুরু করেন। এ অবস্থা ব্রহ্মাদিসহ দেবগণ উপলব্ধি করে সৃষ্টি রক্ষার জন্য শ্রীশ্রী বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে শ্রীবিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা মহাদেবের কাঁধে থাকা সতীদেহকে একান্নটি খণ্ডে খণ্ডিত করে ভূমিতে পতিত করেন এবং মহাদেবকে ধ্বংসলীলা থেকে নিবৃত করেন। সতীদেবীর একান্নটি দেহখন্ড ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, তিব্বত ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়। এই একান্নটি দেহখণ্ড যেসব স্থানে পতিত হয় সেইসব স্থান একেকটি পীঠস্থান তথা তীর্থস্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে। সিলেট নগর থেকে ৩ কি.মি. দক্ষিণে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পশ্চিম পাশে জৈনপুর গ্রামে সত্য যুগের সেই দিনে সতীদেবীর একান্নটি দেহ খণ্ডের একটি দেহাংশ (গ্রীবা) পতিত হয়েছিল। ফলে উক্ত স্থানটি গ্রীবা মহাপীঠ নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী’ এবং অনতিদূরে ঈশান কোণে গোটাটিকর গ্রামে ‘সর্বানন্দ ভৈরব’ নামে পীঠরক্ষী মহাদেব শিব অধিষ্ঠিত আছেন। অতি প্রাচীনকাল থেকে নিত্যপূজাসহ প্রতি বছর অশোকাযোগে পীঠস্থানে বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
 

প্রসঙ্গত, অষ্টম শ্রেণির হিন্দুধর্ম পাঠ্যপুস্তকে শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠের এ বিষয়টি সংযোজিত আছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৪৩৩