নবী প্রবীণের লড়াইয়ে জমে উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। যেখানে ফলাফল নির্ধারণ হতে পারে শিক্ষা কিংবা জনপ্রিয়তার বিচারে। প্রার্থীরা নির্ঘুম প্রচারণা চালাচ্ছেন তাতে ভোটাররাও উপভোগ করছেন মিটিং মিছিল কিংবা সভা সমাবেশে। চায়ের কাপে ঝড় উঠছে চলছে বিশ্লেষণ। কে এগিয়ে, কার ফিল্ড কত পারসেন্ট। এমন বিশ্লেষণের মধ্যমণী হয়ে উঠেছে শিক্ষা নাকি জনপ্রিয়তা?
 

একদল চাচ্ছে জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভোটার টানতে আর অন্য দল চাচ্ছে শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভোটার টানতে। যেখানে ভেদাভেদটা ১৮-২০ এর কোঠায় দাড়িয়ে আছে। তবে এখনো ভোটের সপ্তাহ দিন বাকি রয়েছে। মূল চ্যালেঞ্জটা এখনই হবে। যিনি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারবেন তার পাল্লাই ভারি হবে।
 


উপজেলায় দ্বিতীয়বার নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শামীম আহমদ আর প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন মজির উদ্দিন ও আবুল মনসুর মো. রশিদ আহমদ। দ্বিতীয়বার নির্বাচন করায় উপজেলার মধ্যে পরিচিত মুখ শামীম আহমদ।
 

অন্যদিকে প্রথমবার নির্বাচন করায় উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল গুলোতে নবীন হিসেবে নিজেদের পরিচিতির সাথে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হচ্ছে মজির উদ্দিন ও আবুল মনসুরকে। মাত্র চার মাস আগে নির্বাচন করতে মনস্থির করা মজির উদ্দিন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছাতে পেরেছেন। এক্ষেত্রে নবীন ২ প্রার্থীর মধ্যে মজির উদ্দিন অনেকটা এগিয়ে। আবুল মনসুর মো. রশিদ আহমদ অনেক দিন থেকে মাঠে থাকলেও তাঁর প্রচার প্রসার তেমন করতে পারেননি। তৃনমুলে তৈরি করতে পারেননি নিজস্ব কর্মী। যেটা রয়েছে শামীম আহমদ ও মজির উদ্দিনের।
 

শামীম আহমদের পিতা উত্তর সিলেটের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও শালিস ব্যক্তিত্ব আব্দুল বাছিরও ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। পিতার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রথমবার দাঁড়িয়েই চেয়ারম্যান হয়ে যান শামীম আহমদ। সেই জনপ্রিয়তাকে ধরে রেখে দ্বিতীয়বার জয়ী হতে বিরামহীন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন তিনি। স্ব-শিক্ষিত শামীম আহমদের পরিচিতি ও পিতার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিজয়ী হতে মাঠঘাট চড়ে বেড়াচ্ছেন কর্মী সমর্থক নিয়ে।
 

প্রথমবার নির্বাচন করতে এসে নবীনদের মতো নিজের পরিচিতি সাথে কুড়িয়ে নিচ্ছেন জনপ্রিয়তাও। স্নাতক পাশ মজির উদ্দিনের শিক্ষাই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। মাত্র ৪ মাসে তিনি উপজেলার পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তাঁকে নিয়ে আলোচনা করছে মানুষ। প্রত্যান্ত অঞ্চলেও কর্মী সমর্থকরা তাঁর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করছেন। ভোটারদের আকৃষ্ট করে ভোটে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রাইমারী স্কুল শিক্ষকদের প্রশিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন মজির উদ্দিন। তাঁর শ্রুতিমধুর বক্তব্যে ভোটাররা আকৃষ্ট হচ্ছেন।
 

এদিকে উত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেম মুহাদ্দিস আব্দুল মান্নান ছিলেন আবুল মনসুর মো. রশিদ আহমদের চাচা। স্নাতক পাশ রশিদ আহমদের চাচার পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সিংহভাগ আলেম সমাজের মাঝে নিজের ভোট পাকাপোক্ত করে রেখেছেন। তবে প্রত্যান্ত অঞ্চলে নিজের তেমন কর্মী সমর্থক না থাকায় প্রচার প্রচারণা কিছুটা কম হচ্ছে।
 

উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ত্রিমুখী লড়াইয়ে ১৮-২০শে অবস্থান করছেন মজির উদ্দিন ও শামীম আহমদ। এই দুই জনের লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচন। শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে মজির উদ্দিন যেমন জয়ী হতে চাচ্ছেন তেমনি নিজের ও পরিবারের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজের চেয়ার ধরে রাখতে নির্ঘুম কাজ করছেন শামীম আহমদ।
 

এম সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পরিচালক মুর্শেদ আলম বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২লক্ষ মানুষের কল্যাণে যিনি কাজ করবেন এমন একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা উচিৎ ভোটারদের। সবাই হেভিওয়েট প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত যিনি ভোটারদের মন জয় করতে পারবেন তিনিই চেয়ারম্যান হবেন।


 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জলিল/এসডি-২০৭৮