সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা বলেছেন, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। যদি ভোটের বাক্স বদলানোর চেষ্টা কেউ করে, তাহলে সেই কালো হাত ভেঙে দেবেন।

 



শনিবার (১৯ মে) রাতে জামালগঞ্জে ভীমখালি বাজারে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিমের (শামীম) নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল হুদা এসব কথা বলেন।


স্থানীয় তরুণ–যুবকদের উদ্দেশে নূরুল হুদা বলেন, ‘এলাকায় প্রচার আছে, ভোটের বাক্স বদলে যাবে। যতই ভোট দেন, সব ভোট নাকি অন্য এক প্রার্থীর পক্ষে চলে যাবে। এই অন্যায় কাজ যদি কেউ করেন, সেই কালো হাত ভেঙে দেবেন। আমিও ভোটের দিন মাঠে থাকব। এটা দলীয় নির্বাচন নয়। নেত্রী কাউকে নৌকা প্রতীক দেননি। তাই যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে হবে।’


জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তাঁরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আল আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম ও বিএনপির উপজেলা সভাপতি (বহিষ্কৃত) নুরুল হক আফিন্দী। দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট হবে।

 


এই উপজেলার একাধিকবার চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ। ইকবাল আল আজাদ তাঁর ছেলে। ইউসুফ আল আজাদের মৃত্যুর পর ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখতের সমর্থন আছে। রেজাউল করিম দলের প্রবীণ নেতা। দুবার উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। একাধিকবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করেছেন। এটাই তাঁর শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের পক্ষ টানার চেষ্টা করেছেন। নূরুল হক আফিন্দীও সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি একাধিকবার উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।


ভীমখালির জনসভায় ইকবাল আল আজাদকে ইঙ্গিত করে নূরুল হুদা আরও বলেন, তিনি এলাকায় কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। নিজের উন্নয়ন করেছেন। রেজাউল করিম সারা জীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। তাঁকে বিজয়ী করলে এলাকার উন্নয়ন হবে বেশি।

 


ভীমখালী ইউনিয়নের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মছব্বির মিয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক আজাদুল ইসলাম, জামালগঞ্জের সাবেক বিএনপি নেতা অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী, যুবলীগ নেতা এহসান উজ্জ্বল প্রমুখ।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম /প্র. আলো/ নাজাত