হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সদ্যপ্রয়াত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল নেমেছে। মঙ্গলবার (২১ মে) দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের তাবরিজ শহরে অনুষ্ঠিত এই শোকযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।


অন্যদিকে আজ থেকে পাঁচদিনের শোক পালন করছে ইরান। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জন্য শোক জানাতে বিদায়ী মিছিলে হাজার হাজার ইরানি নাগরিক পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে জড়ো হয়েছেন।


গত রোববার ওই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান এবং আরও সাতজনের সাথে মারা যান ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিও। পরে সোমবার সকালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় অনুসন্ধানকারী দল।
 

আল জাজিরা বলছে, মঙ্গলবার হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ ইরানের পতাকা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাইসির প্রতিকৃতি হাতে নিয়ে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরের কেন্দ্রীয় চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করেন। গত রোববার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এখানেই ফিরছিলেন রাইসি।


এদিকে রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার রসুল সরদার মঙ্গলবার বলেছেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া তথা শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানগুলো ‘বেশ কয়েকটি স্থানে এবং বর্ধিত সময়’ নিয়ে হয়ে থাকে।
 

তাবরিজে বিদায়ী শোক মিছিলের পর ৬৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রাইসি এবং ৬০ বছর বয়সী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানের লাশ অন্য অনুষ্ঠানের জন্য রাজধানী তেহরানে স্থানান্তর করা হবে।
 

এর আগে সরদার বলেছিলেন, মঙ্গলবার দিনের শেষের দিকে মরদেহগুলোকে অন্য একটি অনুষ্ঠানের জন্য মধ্য ইরানের ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে এবং তারপরে আবারও সেগুলো রাজধানী তেহরানে আনা হবে।
 

পরদিন বুধবার তেহরানে বৃহত্তর পরিসরের অনুষ্ঠানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানাজার নামাজের নেতৃত্ব দেবেন এবং বিদায়ী সেই অনুষ্ঠানে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
 

এরপর প্রেসিডেন্ট রাইসির মরদেহ উত্তর-পূর্ব ইরানে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে। ইরানের এই শহরেই প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং বেড়ে উঠেছিলেন।
 

মাশহাদে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বলেছেন, তারা পবিত্র এই শহরে রাইসিকে আগামী বৃহস্পতিবার দাফনের পরিকল্পনা করছেন।

এদিকে, আজ থেকে পাঁচদিনের শোক পালন করছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক আনুষ্ঠানিক বিৃবতিতে প্রেসিডেন্ট রাইসির স্মরণে পাঁচদিনের এই শোক ঘোষণা করেন।


ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গত রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জলফা পার্বত্য এলাকায় রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। হেলিকপ্টারে প্রেসিডেন্টের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানসহ আরও পাঁচজন ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই মৃত্যুবরণ করেন।
 

৬৩ বছর বয়সী রাইসিকে সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরী হিসেবে ভাবতেন অনেকে।

আগামী ২৮ জুন দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের জন্য ইতোমধ্যেই ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
 

প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মোখবারের নাম অনুমোদন করেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলি বাগেরি কানিকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এনটি


সূত্র : ঢাকা পোস্ট