সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলছে ভবনটির ব্যবহার। এতে দুর্ভাগ পোহাচ্ছেন প্রতিষ্ঠনাটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

 


জানা যায়, জনশক্তি প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পাইলট প্রকল্পের অধীনে সিলেট-কুলাউড়া সড়কের ফেঞ্চুগঞ্জ সেতুর টোল প্লাজার পাশে এক দশমিক ৫০ একর জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের নির্মাণ কাজ করেছে। গত বছর জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। এখানে রয়েছে চারতলা ভবনের মূল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি ডরমিটরি ও  শিক্ষকদের আবাসিক ভবন। কিন্তু বছর ঘুরার আগেই ভবনটির বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিম্ন মানের কাজের কারণে অল্প সময় দেয়ালের অধিকাংশ অংশই  দুর্বল হয়ে পড়েছে। ছাদ চুইয়ে পানিতে ভেসে যাচ্ছে কক্ষগুলো।

 
এতে কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত পানি জমে যাচ্ছে মূল ভবনের ভেতরে। ভবনটির মেঝেতে টাইলস থাকায় পানিতে ভিজে যাওয়াতে হাঁটতেও দুর্ঘটনার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা। ছাদের চুয়ানো পানি আর ভেজা দেয়ালের কারণে অধিকাংশ সুইচবোর্ডে পানি প্রবেশ করেছে। এমনকি কেন্দ্রটির নিজস্ব পাওয়ার সাব স্টেশনেও জমে গেছে পানি। দেখে মনে হয়, কেউ পানির পাইপ দিয়ে পানি ঢেলেছে। এতে জীবননাশের শঙ্কা করছেন প্রতিষ্ঠানের অংশীজনেরা। 

 

সরেজমিনে কারিগরি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের আট ইঞ্চি ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকছে কক্ষের ভেতরে। বারান্দা দিয়েও বৃষ্টির পানি ঢুকছে। হাটু সমান পানি জমে যাচ্ছে ভবনের বারান্দায় ও কক্ষের মেঝে। হাটাচলা করতে পারেন না শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। খাবার পানিতে অসহনীয় আয়রনের উপস্থিতির কারনে পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ভেজা দেয়ালে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি)। পানি প্রতিবোধের কোন ব্যবস্থাই রাখা হয় নি। ছাদে নেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা।


 
ভবনের এতটাই গুরুত্বহীন কাজ দেখে স্থানীয়রা হতভম্ব হয়েছেন। 

 

কারিগরিকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ভবনের বিভিন্ন কক্ষের জন্য নিম্ন মানের দরজা দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ৮২টি দরজা বদলানো হয়।

 

এ বিষয়ে কারিগরি কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল আব্দুর রহিম সিলেটভিউকে বলেন, ‘নিম্ন মানের কাজের কারণেই অল্প সময়ে এ ভবনের বেহাল দশার সম্মখিন হচ্ছে। এসব ব্যাপারে আমি গণপূর্ত বিভাগ ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ মহোদয়কে জানিয়েছি। ভবনের এই বেহাল অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আশফাকুল ইসলাম সাব্বির।

 

কারিগরি কেন্দ্রের বেহাল অবস্থার বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেছেন। বলেন, ‘আমি কয়েকবার কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। সমস্যাগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছি তারা কিছু সংস্কার করেছে। বাকিটা ঈদের পরে করিয়ে নিব আশা করছি ৷’ 

 

দরজা পাল্টানোর বিষয়টিও সত্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি মানি আটকা আছে। তারা অবশ্যই কাজ ঠিকঠাক করে দিবে।’

 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নবেলটির ম্যানেজার এম হাসান কে ফোন করা হলে তিনি বর্তমানে এই কোম্পানি কর্মরত নয় বলে জানান। এ ব্যাপারে কারিগরি কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, ‘নবেল'টির ম্যানেজার মি. হাসানই। তিনি কেন না বলছেন জানি না।’

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এনএফ