হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সদর ইউনিয়নের কুশিয়ারার শাখা নদীর সুজনী খালের উপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিগত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে এই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। এতে করে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা ও সড়কটি বিচ্ছিন্ন হবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। শুধু সেতুর সংয়োগ সড়কেই নয় আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং (শরীফ উদ্দিন) সড়কের ২১ কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন যাবত খানাখন্দে বেহাল দশার সৃষ্টি হলেও সংস্কাওে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।
 

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর র্বষার মৌসুম শুরু হলেই সড়কের বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। পরিপুর্ণ মেরামত না করায় প্রতিবছরই ভাঙ্গা সড়কে ঘঠে দুর্ঘটনা।


জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) কতৃপক্ষ বলছে, ২১ কিলোমিটার সড়কটি পরিপুর্ণ মেরামতের জন্য ৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন না হলে ছোটখাট মেরামত ছাড়া কিছুই করতে পারছেন না তারা।
 

স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রতিদিন একমাত্র এই  ব্রীজটি দিয়ে আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া জলসুখা সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল, বাস, সিএনজি, ইজিবাইক সহ মালবাহী বিভিন্ন ধরনের ট্রাক, পিকআপ সহ শত শত গাড়ি জেলা সদর হয়ে ঢাকা, চট্রগ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী বানিয়াচং উপজেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলায়  চলাচল করে।
 

বিগত তিন বছরে বর্ষা মৌসুমে কয়েকবার  উক্ত সেতুর উভয়পাশের সংযোগ সড়ক ও রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়, ঘঠে দুর্ঘটনাও। প্রতিবছর নামমাত্র মেরামত করা হলেও সম্প্রতি অতি বর্ষণে আবারো সংযোগ সড়ক ও রাস্তায় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে সুজনী খালের উপর নির্মিত ব্রীজে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির সংযোগ সড়কে বেশ কযেকটি বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের প্রবেশমুখে, ডাকবাংলোর সামনের অংশসহ ২১ কিলোমিটার সড়কের বিরাট, জলসুখা ও বানিয়াচংয়ের প্রবেশ পথের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।
 

এসময় আলাপকালে, মুজিব মিয়া, সোহরাব উদ্দিন সহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী ও যাত্রীরা জানান, প্রতি বছর বর্ষার (বৃষ্টি) মৌসুমে সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়। করা হয় মেরামতও তবে মেরামতের পরও বছর পেরুনোর আগেই বৃষ্টিতেই সংযোগ সড়ক সহ সড়কের নানান অংশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। এই সেতু দিয়ে শত শত পরিবহনে হাজারো যাত্রী ও মালাামাল বহনকারী যানবাহন চলাচল করে  প্রতিনিয়ত। বর্তমানে সেতুর সংযোগ সড়কটিতে যে ধরনের ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে তা অচিরেই মেরামত করা না হলে যাত্রীদের ভোগান্তি সহ ব্যাবসায়ীরা পড়বেন বিপাকে। এসময় সঠিকভাবে সেতুর সংযোগ সড়কের উভয় পাশের মেরামতেরও দাবি জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।
 

পিকআপ চালক কাউছার মিয়া বলেন, প্রতিদিনই জেলা শহর থেকে মালামাল নিয়ে আজমিরীগঞ্জ আসি। এই ব্রীজ পাড় হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকি কখন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

জলসুখা গ্রামের সাইকুল মিয়া, শিবলু মিয়াসহ এশাধিক বাসিন্দা বলেন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে বের হওয়া ও প্রবেশের একমাত্র সেতু এটি। সংযোগ সড়কে ভাঙ্গনের ফলে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকি। শঙ্কা নিয়ে সড়কটি দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়।
 

সিএনজি অটোরিকশা চালক সাকু মিয়া বলেন, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে জেলা শহর সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে আসা যাওয়া করি। সংযোগ সড়কটি ভাঙ্গনের ফলে শঙ্কায় থাকি। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকি বেশী। এয়াড়া সড়কের নানান অংশে ভাঙ্গনের ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
 

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সল বলেন, ২১ কিলোমিটার সড়কটি মেরামতের জন্য ৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠাণো হয়েছে। এটি অনুমোদন হলে আমরা পুরো সড়কটি সংস্কার করতে পারবো। এমনিতে আমাদের নিয়মিত যে সংস্কার তা আমরা করছি।


 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/মিলাদ/এসডি-৫২৮২