মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৬ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ, রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের খুশালপুরে প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৪০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে।


কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের ছয়কুট এলাকায় এবং আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি-আধাকানি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১২টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কায় করছেন এলাকাবাসী।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ এলাকার এবং রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের খুশালপুর গ্রামে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দিয়েছে।

ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে নারায়নপুর, চৈতন্যগঞ্জ, বাঁধে উবাহাটা, খুশালপুর ছয়কুট, বড়চেগ, জগন্নাথপুর, প্রতাপী, গোপীনগর, আধকানী, কাঁঠালকান্দিসহ প্রায় ৪০টি গ্রামে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ও বাড়ী ঘরে পানি প্রবেশ করছে। এদিকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধলাই নদীর সাথে সংযুক্ত ড্রেন দিয়ে পানি প্রবেশ করে পৌর এলাকার ৩টি ওয়ার্ডের পানিশালা, চন্ডীপুর ও নছরতপুর এলাকায় বসতবাড়ী, ডাক বাংলো, মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজারে পানি প্রবেশ করেছে।

উপজেলার পৌর এলাকার খুশালপুর, নিন্মাঞ্চল পতনউষার, মুন্সিবাজার, আদমপুর, ইসলামপুর ও আলীনগর এলাকার বৃষ্টির পানি লাঘাটা ও খিন্নি ছড়ায় পানি উপছে পড়ে ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের রামপাশা, শিমুলতলা সহ প্রায় ১২ স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩টি স্থানে ভাঙন দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নদীতে পানি বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক নজরদারী রয়েছে। এছাড়া সবকটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/এসডি-৫৩৮৩