সিলেটের জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকার গ্রামীণ রাস্তা ও সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি লোকজন বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে রয়েছেন। গৃহপালিত পশু নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন।
 

ইতোমধ্যে পৌর এলাকার একটি অংশসহ উপজেলার ৬টি ইউপির বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
 


বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লোকালয়েও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় আমলশীদ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সে.মি. ওপরে ও কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৬ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত জকিগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ৮৫ টি গ্রামের ১ লাখ ২৫ হাজার ৮৯০ জন মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। ৮ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রতিটি ইউপিতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তাছাড়াও প্রতিটি ইউপিতে দুটি নৌকা ও দুজন মাঝিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
 

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা তাসলিম জানান, বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ৬৩ মেট্রিকটন চাল, ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ অর্থ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যর জন্য ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। বন্যা পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের সর্তক দৃষ্টি রয়েছে।


 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/হাছিব/এসডি-৫৩৮৫