সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বন্যার পানির কিছুটা উন্নতি হলেও থামছেনা এখনো বৃষ্টি। তাই আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠা মানুষ এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। 

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বিভিন্ন ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে  বানভাসিদের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।


 তিনি বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে  উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন, লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের লেঙ্গুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। 

এছাড়াও তিনি বিছনাকান্দি ইউনিয়নের কুপারবাজার উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র,রুস্তুমপুর ইউনিয়ন ভবন আশ্রয় কেন্দ্র,তোয়াকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের জলুরমুখ আশ্রয় কেন্দ্র সহ আরো দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিবেন।

 এসময় উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভুমি সাইদুল ইসলাম,গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম পিপিএম, গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ, সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য সুবাস দাস, লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

 সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। 
এতে উপজেলার সিংহভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ। এছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানপাঠে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষজন ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন সাহেদা বেগম। 

৫৫ বছর বয়সী এই নারী বলেন, 'বন্যার কারণে পানি বাড়ছেই। ঘরে কোমর পানি। দাঁড়াইবার জায়গা নেই। বন্যার পানির স্রোতে আমার ঘরের বেড়া ভেঙে গেছে। ঘরের ভিতরে আর থাকার মতো না। পরিবারের সদস্য নিয়ে বিপাকে পড়েছি।'

'দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে না গেলে বন্যার পানিতে শিশুদের বিপদ বাড়তে পারে। তাই বাড়িঘরের সব ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাচ্ছি। না ফেলে উপায় নেই সব নষ্ট হয়ে গেছে,' বলেন তিনি।

একই কথা বলেন রানু বেগম। ৩৫ বছর বয়সী রানু বেগমের ভাষ্য, 'বন্যার পানিতে আমার বাড়িটা ধসে গেছে। উপায় না পেয়ে গতকাল রাতে এখানে এসে উঠি। এই কলেজে  ৩০টি পরিবার থাকছে।'

আজ বৃহস্পতিবার গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট ইউনিয়ন ১৩টি ইউনিয়নের ৩১৩টি গ্রামের মধ্যে ২২৩ টি গ্রাম প্লাবিত। উপজেলার ৬৬,১৯১টি পরিবারের মধ্যে পানিবন্দি পরিবার ২৯,৬০০ টি। এছাড়াও প্রায় ১৫০০ হেক্টর কৃষি জমি বন্যার পানিতে  নিমজ্জিত। 

ক্ষতিগ্রস্থ লোক সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ জন। ২৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত লোকসংখ্যা ১৭২৫জন এবং আশ্রিত গবাদিপশুর সংখ্যা ৭২৮টি।

জানা গেছে, গত ৬ দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বড়লেখা পৌর এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানপাঠে পানি প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উঠেছে বাড়ির মধ্যে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাই ঘরে থাকতে না পেরে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন। এছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী সবকটি সড়ক সহ বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে  খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করা হচ্ছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে। তবে রাস্তাঘাটে পানি থাকায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। এছাড়া হাওরাঞ্চলে  ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।'

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, 'বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব পরিবারের মাঝে খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবারও পাঠানো হচ্ছে।'

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এনএফ