প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১৫:৪৩ (শনিবার)
বালু দিয়ে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ, কৃষকরা শঙ্কায়

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার রুই বিল হাওর উপপ্রকল্প নামক ফসলরক্ষা বাঁধে মাটির পরিবর্তে বালু মটি দিয়ে বাধঁ মেরামত করার অভিযোগ উঠেছে। ১৪৩ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. রফিক মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

রফিক মিয়া চামরদানী ইউনিয়নের আলী আহাদপুর গ্রামের বাসিন্দা। বালু মাটি দিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ করায় হাওর পাড়ের কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, বাঁধে মাটির পরিবর্তে পাশের উবধাখালী নদীর চর থেকে এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে বালি মাটি উত্তোলন করে ড্রাম ট্রাক দিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ করছেন কিছু শ্রমিকরা। বালু মাটি দিয়ে বাঁেধর কাজ করার হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ পাউবো'র উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে এসে নিষেধ করলেও তা মানছেন না প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রফিক মিয়া। বালু মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করায় আগাম ফসলহানীর আশংকা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী হাওরে যাদের জমি রয়েছে তাদের দিয়ে পিআইসি কমিটি গঠন হওয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো.রফিক মিয়ার (পিআইসি) এ হাওরে কোন কৃষিজমি নেই এবং তিনি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দাও না। এরপরও তিনি অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রকল্প কমিটির সভাপতি হয়ে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম করে যাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মাত্র আর ৪দিন সময় থাকলেও এখনও বাঁধের অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি।

গলইখালী গ্রামের কৃষক স্বদেশ চন্দ্র সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বান্দে আইছৈন যহন নিজেরাই ভালা কইরা দেইখ্যা যাইন, বালু মাটি দিয়ে কিভাবে বান্দের (বাঁধের) কাজ করা হচ্ছে। এই ভাবে বান্দের কাজ করা অইলে আগাম বন্যার পানি আইয়্যা এই বান (বাঁধ) ভাইঙা আমরার সব শেষ অইয়্যা যাইব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ড্রাম ট্রাক চালক বলেন, বাঁধের কাছাকাছি মাটি না থাকায় প্রকল্পের সভাপতির নির্দেশেই আমরা পাশের নদীর চর থেকে বালু মাটি এনে বাঁধ মেরামতের কাজ করছি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি (পিআইসি) মো. রফিক মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, আমি তো এই প্রকল্পের নামে মাত্র সভাপতি (পিআইসি)। প্রকল্পের মূল মালিক হলেন, মধ্যনগর থানা আ. লীগের নেতা মাহাবুব ফারুকী।

উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পাউবো'র উপ সহকারি প্রকৌশলী মো.ইমরান হোসেন বলেন, ১৪৩ নম্বর প্রকল্পের মেরামত কাজে বালু দেয়ার বিষয়ে আমাদের এসও জাহাঙ্গীর নিজে বাঁধে এসে পিআইসিকে নিষেধ করেছেন। এরপরও যদি মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে বাঁধের কাজ করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

প্রসঙ্গত, ২০২১-২২ অর্থবছরে ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল, কাইল্যানী, সোনামড়ল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, গোড়াডুবা, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৫৭টি প্রকল্প নির্ধারণ করে। ১৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে প্রয়োজন হবে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ ঘনমিটার মাটির। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। পাউবো'র বেঁধে দেয়া সময়সীমা অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করে চলতি মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। অথচ বাঁধের অর্ধেক কাজ এখনও শেষ হয়নি।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / রাজ্জাক / ডি.আর