প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২২ ১৪:২২ (শনিবার)
প্রতারক আমিন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন! গ্রেফতার হয়েছিলেন আগেও

সিলেটে এখন ‘টক অব দ্যা টাউন’ প্রতারক আমিনুর রহমান। গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে তার সম্পর্কে নানা অজানা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি নিজেকে স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের উপদেষ্টা ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন। প্রতারণার দায়ে আগেও একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। তারপরও থেমে থাকেনি তার প্রতারণা।

সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে সিলেটের প্রায় ৩ শ মানুষের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। এমনকি পালিয়েও যেতে চেয়েছিলেন বিদেশে। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তার সে অপতৎপরতা সফল হয়নি। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার হতে হয়েছে পুলিশের হাতে। আজ (বুধবার- ২ মাচ) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

আমিনুর রহমান সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিজগাওয়ের তোফাজ্জল আলীর ছেলে। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার হক সুপার মার্কেটে আমিন রহমান ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। নামসর্বস্ব সেই প্রতিষ্ঠান খুলে সিলেটের প্রায় ৩ শ তরুণের কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন আমিনুর রহমান।

সম্প্রতি তরুণদের কয়েকজনের রোমানিয়ায় ফ্লাইট দেয়ার কথা ছিল। তারা আমিনুর রহমানের দেয়া কথামতো রোমানিয়া যাওয়ার জন্য এয়ারপোর্টেও চলে গিয়েছিলেন। এয়ারপোর্টে গিয়ে আমিনুর রহমানকে ফোন দিলে সে ফোন ধরেনি। বিদেশ যেতে না পেরে গত শনিবার তরুণরা সিলেটের জিন্দাবাজারের আমিন রহমান ট্রাভেলসে এসে জানতে চাইলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে।

এর দুই দিন আগ থেকে আত্মগোপনে চলে যান আমিনুর রহমান। এরপর ভুক্তভোগীরা এসে ভিড় জমান ট্রাভেলসে। রোববার দক্ষিণ সুরমার বানেশ্বরপুরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম বাদি হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যাতে ১৮ জন ভুক্তভোগী তাদের নগদ ১ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। সর্বমোট ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় এজাহারে। মামলায় আমিনুর রহমান ছাড়াও তার আরো দুই ভাই সিদ্দিকুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান একজন পুলিশ সদস্য।

জানা যায়, আমিনুর রহমান এই প্রথম গ্রেফতার হননি। ২০১৫ সালে দেশব্যাপী আলোচিত একটি প্রতারণা মামলায় সহযোগীসহ গ্রেফতার হয়েছিলো সে। অতিদরিদ্র পরিবারের বেড়ে ওঠা আমিনুর রহমান প্রথমে একটি ট্রাভেলসে সহকারীর কাজ করতো। একটা সময় নিজ এলাকায় ‘এডভান্স’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেন। যেখান থেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ নানা কাজ সিলেট শহরের বিভিন্ন ট্রাভেলস থেকে করিয়ে নিতেন। যে কারণে তিনি এলাকায় অনেকটা ‘এডভান্স আমিন’ নামে পরিচিত। এরপর আর বসে থাকেননি। নিজেই নগরীর রংমহল টাওয়ারের একটি অফিস খুলেন।

সেখানে বসে সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকার উপদেষ্টা হিসেবে সংবর্ধিত হয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে থাকেন। এরপর আর অপেক্ষা সয়নি। নিজে সিলেটের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে অফিস খুলেন আমিনুর রহমান। নিজের নামে খুলেন আমিন রহমান ট্রাভেলস। রোমানিয়ার মানুষ পাঠানোর কথা বলে গণমাধ্যমে দেন বিজ্ঞাপন। বাসা ভাড়া নেন নগরীর উপশহরে। বাড়তে থাকে প্রতারণার জাল। এরপর সিলেটের দুই শতাধিক তরুণকে রোমানিয়া পাঠানোর কথা বলে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন আমিনুর।

দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে চাইছিলেন কোটি কোটি টাকা আত্মসাতকারী সেই আমিনুর রহমান। তবে দ্রুত পদক্ষেপে সে আটকা পড়েন পুলিশের জালে। ঢাকা থেকে বিদেশে যেতে ব্যর্থ হয়ে সিলেটে ফেরার পথে মঙ্গলবার বেলা ২টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে পুলিশ। বিষয়টি সিলেটভিউ-কে জানান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মাহমুদ।

তিনি বলেন, তার বিষয়ে খবার পাওয়ার পর থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছিলো সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে। তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশনকে অবহিত করা হয়। এক পর্যায়ে ঢাকায় গিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করতে না পেরে সে পুনরায় একটি বাসযোগে সিলেটে ফিরছিলেন তিনি। খবর পেয়ে তাকে ফলো করছিলো পুলিশ। পরে দক্ষিণ সুরমার তেতলিতে ঢাকা থেকে একটি বাসে গতকাল বেলা ২টায় অভিযান চালিয়ে আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি জানান, বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম