সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ সিন্ডিকেট কমিটির নতুন দুইজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সদস্য হলেন প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা এবং ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান ও চা উৎপাদন প্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. এ.এফ.এম. সাইফুল ইসলাম।
অধ্যাপক জামাল এর আগে দুই মেয়াদে (২০১১-২০১২, ২০১৩-২০১৪) চার বছর সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে তিনি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে এবং তিন মেয়াদে ৫ বছর (২০০৯-২০১০, ২০১১-২০১২, ২০১৩) পরিচালক (ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা) হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পরিচালিত বিশ্বদ্যিালয়ে শিক্ষকদের সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ’ এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (২০০৮) ছিলেন অধ্যাপক জামাল।
গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের গত তিনটি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক জামাল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের সভাপতি, গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রয় কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় ওয়ার্কস কমিটির সভাপতি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মের পরিচালক, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের অতিরিক্ত পরিচালকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি।
ক্যাম্পাসের বাইরে কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) সিলেট চ্যাপটারের সভাপতি, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য, নতুন স্থাপিত খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল খোলা (২০১৮ থেকে অধ্যাবদি) এবং সিলেবাস ও কারিকুলাম প্রনয়ণ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য (২০১৯ থেকে অধ্যাবদি), বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েসন (বিভিএ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।
তার তত্ত্বাবধানে ১৫জন শিক্ষার্থী মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন এবং আরো ৩জন শিক্ষার্থী চলমান রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বাংলা ও বাঙ্গালি সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র “কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংগঠন”এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সন্তান প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন।
অপরদিকে ৩৭ বছর ৯ মাসের চাকুরির অভিজ্ঞতা নিয়ে জাপানের ওসাকা প্রিফেকচার ইউনিভার্সিটি ও চিবা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরেট নিয়ে প্রফেসর ড. মো. এ.এফ.এম. সাইফুল ইসলাম বিজ্ঞানী হিসেবে বাংলাদেশে বেশ সুনাম অর্জণ করেছেন। বিনা টমেটো ৬ ও বিনা টমেটো ৭ নামে দুটি টমেটোর জাত উদ্ভাবন করেছেন তিনি।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রফেসর সাইফুল চা জার্মপ্লাজম সেন্টার, কফি জার্মপ্লাজম সেন্টার, কাজুবাদাম জার্মপ্লাজম সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন। কৃষি মন্ত্রনালয়, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন, হেকেপ, ইউজিসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়, সাউরেস, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কৃষি গবেষণা সংক্রান্ত নানারকম বৈজ্ঞানিক প্রজেক্ট নিয়ে তিনি কাজ করছেন।
ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক, কৃষি অনুষদের ডিন, ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালের প্রধান সম্পাদক, সাউরেসের পরিচালক, টেন্ডার ইভাল্যুশন কমিটির চেয়ারম্যান, শিক্ষক সমিতি ও গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সদস্যসহ নানা রকম প্রশাসনিক কাজে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ৪৬ জন এমএস ও ৩ জন পিএইচডি শিক্ষার্থীর সুপারভাইজার ছিলেন প্রফেসর সাইফুল।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সন্তান প্রফেসর সাইফুল জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এর আগেও ২০১৪-২০১৬ সালে সিকৃবির সিন্ডিকেট মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ প্রেবি/ শাদিআচৌ-০৮
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.