প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২২ ১৪:৫৬ (বৃহস্পতিবার)
বিশ্বনাথে ঘুষ না দেওয়ায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে চুরির মামলা!

সিলেটের বিশ্বনাথে দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্দ (বিলপার) গ্রামের ইন্তাজ আলী (৭০) নামের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা মূল্যের গাছ চুরির মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় থাকা গাছ চুরি দেখিয়ে রেমিটেন্স যোদ্ধা ইন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও নানামুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা জাহানের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলার প্রয়াগমহল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী খালেদ আহমদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ২২ (তাং ২৪.০২.২২ইংরেজী)।

রেমিটেন্সযোদ্ধা ইন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার হয়রাণী থেকে পরিত্রাণের জন্য গত ৮ মার্চ বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে দ্বীপবন্দ (বিলপার) গ্রামের ৬০ জন ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী স্মারকলিপিতে অতিসত্ত¡র রেমিটেন্স যোদ্ধা ইন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্ধ (বিলপার) গ্রামের মৃত হরমান আলীর পুত্র ইন্তাজ আলী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। তার বয়োবৃদ্ধ বোন প্রবাসীর বাড়িতে থাকেন। তিনি প্রায় ২০ বছর পূর্বে তাদের নদী ভাঙ্গনে যাওয়া চর ভরাট ভূমিতে কয়েকটি গাছ রোপন করেন। সেই গাছগুলি গত ২ বছর পূর্বে তিনি বিক্রিও করে দেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারী ক্রেতা তার ক্রয়কৃত গাছ কেটে ফেলেন। ওই (২২ ফেব্রুয়ারী) দিন স্থানীয় মেম্বারের যোগসাজসে প্রয়াগমহল তপশীল অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা খালেদ আহমদ প্রবাসী ইন্তাজ আলীর বাড়িতে গিয়ে গাছ কাটার মামলা খুনের মামলা থেকে বড় ইত্যাদি ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন এবং বিশ্বনাথের সহকারি কমিশনার (ভূমি) আছমা জাহান তালুকদারকে আরোও ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়ার প্রস্তাব দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩ ফেব্রুয়ারী ইন্তাজ আলী স্ত্রী ও বৃদ্ধা বোনকে নিয়ে বিশ্বনাথে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা জাহানের অফিসে যান। এসময় আসমা জাহান তাদেরকে (প্রবাসী পরিবার) সবকিছু আইনগত ভাবে করা হবে মর্মে জানিয়ে ইন্তাজ আলী গংদের সাথে অশালীন ভাষায় নানান কথা বার্তা প্রবাসীসহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে নিজের অফিস থেকে বের করে দেন। অফিস থেকে বের হওয়ার পূর্বে প্রবাসী ইন্তাজ আলী সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা জাহানকে বলেন, আমি এই গাছ যেমন রোপন করিনি, তেমনি বিক্রিও করিনি। প্রয়োজনে আপনি গাছগুলো বিক্রি করে দেন, না হয় আমার বোন গাছের উপযুক্ত মুল্য সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে দিবে। কিন্তু আমি কাউকে কোন ঘুষ দিতে পারব না। এরপর দিন (২৪ ফেব্রুয়ারী) বিশ্বনাথে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা জাহান সরেজমিনে তদন্ত করেন। তার (আসমা) তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ওই দিন প্রয়াগমহল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী খালেদ আহমদ বাদী প্রবাসী ইন্তাজ আলীকে একমাত্র অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার চুরির ধারাও দেয়া হয়েছে। অথচ কর্তনকৃত গাছ স্থানীয় মেম্বার সিরাজ উদ্দিনের জিম্মায় রেখেছেন থানা পুলিশ।

অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, প্রবাসী ইন্তাজ আলী দেশে আসার পর গত ৩১ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের খরচের জন্য সিরাজ উদ্দিন প্রবাসীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঋন চেয়ে ছিলেন। আর প্রবাসী সিরাজ উদ্দিনকে ওই টাকা না দেয়ায় প্রয়াগমহল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী খালেদ আহমদ ও সিরাজ উদ্দিন মেম্বার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা দায়ের করান। অথচ কর্তনকৃত লাকড়ী এখনও নিদিষ্ট স্থানে পড়ে আছে। একজন রেমিটেন্স যোদ্ধার বিরুদ্ধে এধরনের সাজানো মামলা দায়েরের ফলে এলাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিজেদের বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সিরাজ উদ্দিন ও প্রয়াগমহল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী খালেদ আহমদ এবং বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা জাহান।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিবিএ/এসডি-০৫