সিলেট মহানগরীর ভেতর দিয়ে ২৬টি ছড়া বা খাল প্রবহমান। প্রতিদিন এসব ছড়া-খালে নুন্যতম ৫০ টন বর্জ্য ফেলা হয়। যা সুরমা নদীকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
তথ্যটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
সিলেট অঞ্চলের নদী, ছড়া ও খাল রক্ষায় বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস ২০২২ উপলক্ষে এটিসহ পরিবেশবাদী ৬টি সংগঠনের উদ্যোগে সিলেট বিভাগের নদ-নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আগামী ২২ মার্চ হবিগঞ্জে ‘গণশুনানি’ অনুষ্ঠিত হবে।
‘গণশুনানি’ সফলের লক্ষ্যে এ ৬টি সংগঠনের উদ্যোগে শনিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সিলেট নগরীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সিলেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন, সিলেট মহানগরীর ভেতর দিয়ে প্রবহমান ২৬টি ছড়া বা খালে প্রতিদিন নুন্যতম ৫০ টন নাগরিক বর্জ্য ফেলা হয়। যা সুরমা নদীকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। তাছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা বিধৌত শত নদীর সিলেট বিভাগে নদী ধ্বংসের অপকর্ম কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। যার প্রভাবে আমাদের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন হচ্ছে। দখল, দুষণ ও ভরাটের কারণে সিলেটের অনেক নদী আজ মুমূর্ষু। এই নদীগুলো রক্ষা করা না গেলে সিলেটের অস্তিত্ব সংকট হবে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, সিলেটের আধিকাংশ নদী প্রতিবেশী দেশ ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর ১৭টি নদী সিলেট বিভাগের। বাংলাদেশমুখি এই নদীগুলোর অধিকাংশে ভারত সরকার বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ করেছে। আমাদের নদীগুলোতে প্রয়োজনের সময় পানির অপর্যাপ্ততায় হাহাকার লাগে। আবার অপ্রয়োজনের সময় অতিরিক্ত পানি প্রবাহে দুর্ভোগ বাড়ে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সিলেট বিভাগের চার জেলায় প্রায় ১৩৪টি নদীর অস্তিত্ব আমরা খুঁজে পেয়েছি। যদিও শুষ্ক মৌসুমে ১০০টি নদী চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যায়। তবুও ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে, উপজেলা থেকে উপজেলায় এই নদীর নাম পাওয়া যায়। চিহ্ন দেখা যায়। ভূমি জরিপের কেতাবে যা নদী হিসাবে লিপিবদ্ধ আছে, বর্ষায় ভূমিতে সেই নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। যা আছে তা রক্ষা করতে হবে। সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, মনু, যাদুকাটা, ধলা, ধলাই, জুড়ি, বাসিয়া, বোকা, মাগুরা, সোনাই, সুতাং, নলজুড়সহ সিলেটের বিভিন্ন নদী এখন দুষণের কারণে বিপর্যস্থ। তীরের প্রায় প্রতিটি গঞ্জ-বাজারের আবর্জনার শেষ গন্তব্য হয় নদী। এই আবর্জনায় প্লাষ্টিক বর্জ্যই পরিমাণে বেশি। তাছাড়া হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাটের অপরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল এই মূহুর্তে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর জন্য একটি বড় হুমকি। গত দেড় দশকে এই অঞ্চলে স্থাপন করা বিভিন্ন শিল্পকারখানা বর্জ্যশোধনাগার ব্যবহার না করে কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২২ মার্চ হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিতব্য ‘গণশুনানি’র আয়োজনকারী সংগঠনগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটারকিপার'স বাংলাদেশ, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার, সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার, সারি নদী বাঁচাও আন্দোলন ও বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ।
২২ মার্চ সকাল ১১টায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই ‘গণশুনানি’ অনুষ্ঠিত হবে। গণশুনানিতে ৬ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ছাড়াও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং নদ-নদী দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। ‘গণশুনানি’ থেকে উঠে আসা মতামত ও সুপারিশসমূহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমে পাঠানো হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.