প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২২ ১৫:০৫ (বুধবার)
তাহিরপুরে বাঁধ ভেঙে ৫ হাজার বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালী বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ শ বিঘা বোরো জমির ধান ক্ষেত কৃষকদের চোখের সামনেই পানিতে তুলিয়ে গেছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে প্রবল স্রেতে ফসলরক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। এর আগে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে রাতদিন মাটি দিয়ে বাঁধটি রক্ষার জন্য চেষ্টা করেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, টাঙ্গুয়া হাওর পাড়ের জয়পুর, গোলাবাড়ি, মন্দিয়াতা, রংচি, রুপনগর সহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা বোর ধান রোপন করেন। এখানকার কৃষকদের দাবীর মূখে টাঙ্গুয়া হাওরের ৩টি বাঁধ মেরামতের জন্য সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেন। কিন্তু বাঁধে সঠিক ভাবে কাজ না করায় পানি আসা মাত্রই বাধঁটি ভেঙ্গে ফসল তলিয়ে গেছে।

টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের গোলাবাড়ি গ্রামের ডালিম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নজরখালি বাঁধটি ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করে। এ হাওরটিতে ২৪ হাজার ৭০৩ একর জলাভূমি থাকলেও চাষাবাদের জমির পরিমাণ রয়েছে ৫ হাজার ৫০০শ বিঘা। এসব জমির মালিক হচ্ছেন তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর, দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন এবং ধর্মপাশা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের কৃষকরা।

শুক্রবার সকাল থেকে গোলাবাড়ি, রংচি, রুপনগর সহ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক কৃষক নজরখালি বাঁধটি রক্ষার জন্য সেচ্ছশ্রমে কাজ করেন। এ বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী লতিবপুর হাওরের ২’শ একর জমির ধান হুমকিতে পড়েছে। হাওরটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার জন্য কৃষকরা দাবী জানালেও বিগত দুই যগ ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি আমলে নেননি।

গোলাবাড়ী গ্রামের অন্ধ কৃষক তোষা মিয়া বলেন, এই হাওরে আমি এক একর জমি রোপন করেছিলাম ধার দেনা করে। কিন্তু বাধঁ ভেঙ্গে পানিতে আমার পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এখন কিভাবে ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার চালাবো কোন কূলকিনার পাচ্ছিনা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুরে শাখা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, টাঙ্গুয়া হাওর ও লতিবপুর হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভূক্ত নয়। তাই তাদের পক্ষে এসব হাওরে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা বলেন, টাঙ্গুয়া হাওরের পাড়ে প্রায় ৫হাজার ৫০০শ বিঘা বোরো জমি রয়েছে। গত রাতে মেঘালয়ে ৩৫৫ মিলি মিটারে বৃষ্টি হয়েছে। আর বৃষ্টির পানি নীচে নেমে আসলে প্রবল স্রেতে বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, নদীর পানি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালী বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। মাটিয়ান ও শনি হাওরের বাঁধগুলো এখনও ভাল রয়েছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএআর/ডি.আর