প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২২ ১৭:০৬ (শনিবার)
নির্মাণের আড়াই বছরেও হস্তান্তর হয়নি বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দায়সারা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।

কাজের শুরু থেকেই দফায় দফায় চলছে ভাঙাগড়ার দায়সারা কাজ। এসব কারণেই গত আড়াই বছরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে হস্তান্তর করতে পারেনি বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। গত দুই বছর ধরে পাঠদান চলছে টিনসেডের ভাড়াটে এক ভাঙা ঘরে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পুরান বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ পায় মেসার্স দিহান এন্টারপ্রাইজ। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৬’ ৩২ টাকা। কিন্তু কাজের শুরুতেই নিম্নমানের রড, সিমেন্ট, ইট, বালি-পাথর ব্যবহার করায় হস্তান্তরের পূর্বেই মেঝেতে (ফ্লোরের সাইডে) ফাঁটলসহ জানালার গ্রিলের জয়েন্ট খুলে যাচ্ছে। ২০২০ সালের শুরুতে নির্মাণকাজ শুরু হলেও আজোবধি ভবনটি হস্তান্তর করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এখনো চলছে ভাঙাগড়ার কাজ।

উপজেলা এলজিইডি অফিস কর্তৃপক্ষ জানান, ত্রুটিপূর্ণ কাজ রেখে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাইড ফ্লোর ভেঙে পুণরায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ সিলেটভিউকে বলেন, শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম এবং লাগাতার ভাঙাগড়ায় নতুন ভবনটির অবস্থা খুবই নাজুক। এ ছাড়া দায়সারা কাজ করায় দীর্ঘদিনের ব্যবধানেও নির্মিতব্য নতুন ভবনটি হস্তান্তর না করায় পাঠদানে মারাত্মক বিঘ্নতা ঘটছে। কাজের শুরু থেকেই একটি ভাড়াটে টিনসেড ঘরে চলছে পাঠদান। সেখানে নেই কোনো বিদ্যুৎ, পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থা। একটুখানি বৃষ্টি হলেই ব্যহত হয় পাঠদান।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আছমত আলী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের দায়সারা কাজ করলেও দেখার কেউ নেই। কাজের মান ও গতি নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স দিহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম সিলেটভিউকে বলেন, বিল্ডিংয়ের ত্রুটি থাকলে তা সমাধান করা হবে। এ বিষয়ে সকল দায়দায়িত্ব উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষের।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান সিলেটভিউকে বলেন, স্কুল ভবন নির্মাণে ত্রুটি থাকার বিষয়টি জেনেছি। ওই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে পুণরায় কাজ না করা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ বিল উত্তোলনের কোনো সুপারিশ করা হবে না।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/টিআই/এসডি-২০