পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ছিলো শেষ কর্মদিবস। আগামীকাল শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে টানা ছয় দিনের ছুটি।
শেষ কর্মদিবসে সিলেটের আফিস-আদালত ছিলো স্বাভাবিক। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিলো অন্যান্য দিনের মতোই। শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেকে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময় করছেন।
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখাসাপেক্ষে মে মাসের ২ অথবা ৩ তারিখ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে সিলেট নগরীতে বসবাসকারীরা ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। আগামী দুদিনের মধ্যে নগরী প্রায় ফাঁকা হয়ে যাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর ৪ ঈদে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিধি-নিষেধ নেই। তাই চাকরি বা ব্যবসার সুবাধে সিলেট নগরীতে বসবাসকারী মানুষজন এবার বাড়িতে গিয়ে পরিবার-স্বজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। এমন প্রস্তুতিও নিচ্ছেন নগরীর বাসিন্দারা।
আব্দুল আওয়াল নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, আমার বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। গত দুই বছরের চারটি ঈদ-ই পরিবার ও বাড়ির মানুষের কাছ থেকে আমাকে দূরে রেখেছে ভয়ঙ্কর করোনা। তবে এবার বাড়িতে গিয়ে ঈদ করবো। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) জুম্মার নামাজের পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়- ট্রেন যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই স্টেশনে। যাত্রীরা বলছেন, অগ্রিম টিকেট সংগ্রহের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি তাদের। অনলাইন টিকেট সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। বাড়তি ভাড়াও দিতে হচ্ছে না। সব মিলিয়ে যারা টিকেট পেয়েছেন তাদের মধ্যে একটি স্বস্তি বিরাজ করছে।
তবে এমন আনেকেই আছেন- যারা বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) এসেছেন অগ্রীম টিকেটের জন্য। টিকেট না পেয়ে তারা ছুটছেন বাস কাউন্টারের দিকে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সিলেটভিউ-কে বলেন, অগ্রীম টিকেন বিক্রি সুশৃঙ্খলভাবেই হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। সব ট্রেন সময়মতো স্টেশন ছেড়েও যাচ্ছে।
অপরদিকে, বাস কাউন্টরগুলোতে যাত্রীদের একটু ভিড় লক্ষ্য করা গেছে বৃহস্পতিবার। যাত্রীরা বলছেন- টিকেট পেলেও ভাড়া একটু বেশি গুনতে হচ্ছে তাদের।
শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস কাউন্টারের ম্যনেজার বলেন, গত দুই বছরের ক্ষতি এবার আমরা পুষিয়ে নিতে পারবো আশা করছি। তবে দূরপাল্লার বাসগুলোর আশানুরূপ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যনেজার বলেন, ঈদ উপলক্ষে টিকেটের দাম একটু বেশি। পরিবহন সমিতির বেধে দেওয়া নির্ধরিত ভাড়াই তারা নিচ্ছেন।
এনা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজর বলেন, আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত সকল বাসের সিট ইতিমধ্যেই বুকিং হয়ে গেছে। প্রয়োজন হলে কোচ সংখ্যা বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) সপ্তাহিক ছুটি। এর পর ১ মে হচ্ছে মে দিবসের ছুটি। এর পর ৩ মে (রমজান মাস ৩০ দিন ধরে) ঈদ ধরে ২, ৩ ও ৪ মে (সোম, মঙ্গল ও বুধবার) ঈদের ছুটি ধরেছে সরকার। সেই হিসাবে আগামী ৫ মে অফিস করতে হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আর ৫ মে কেউ ছুটি নিলে তিনি টানা ৯ দিনের ছুটি পেয়ে যাবেন।
এদিকে, সরকার ৫ মে (বৃহস্পতিবার) ছুটি ঘোষণা করে এ সুবিধাটা দেবে কিনা, সেই বিষয়টি আলোচিত হচ্ছিল। কিন্তু ৫ মে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নাজাত/ডালিম/এসডি-২৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.