সুনামগঞ্জে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই পেট্রোল-অকটেন বন্ধ রাখা হচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলো।
কেউ স্টেশনের মেশিন, আবার কেউ জ্বালানি (পেট্রোল-অকটেন) নেই বলে জানান দিচ্ছেন। কেউ আবার পেট্টল নেই বলে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আর এই সুযোগে জ্বালানি তেলের দাম বেশি রাখছেন খুচরো বাজারের ব্যবসায়ীরা।
মূলত ঈদের ছুটির পর থেকে হঠাৎ পেট্রোল-অকটেন উধাও হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ শহরে মঙ্গলবার (১০ মে) থেকে স্বল্প পরিসরে পেট্টল সেবা চালু হলেও পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল অকটেন। উপজেলা পর্যায়ের অনেক পাম্পেই মিলছে না পেট্রোল-অকটেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু পাম্পে পেট্রোল আছে তো অকটেন নেই, অকটেন আছে তো পেট্রোল নেই। হঠাৎ করে পেট্রোল-অকটেন সংকটের কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছেন হালকা যানবাহনের চালকরা। পাম্পে পাম্পে ঘুরে জ্বালানি না পেয়ে অনেকেই মোটরসাইকেল বা হালকা যানবাহন গ্যারেজ থেকে বের করতে পারছেন না। আর এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা পেট্রোল-অকটেন বোতলজাত করে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
পাম্প মালিকদের ভাষ্যমতে, গত প্রায় তিন মাস থেকে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ঈদ-উল ফিতরের ছুটির পর জ্বালানি সংকট বেশি বেড়েছে। এজন্য পাম্পগুলো তেল শূন্য হয়ে পড়ে আছে।
তবে সিন্ডিকেট করে এখন পেট্রোল-অকটেনের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে। ঈদের আগে চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়েছে। তাই ঈদের পর মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চালকরা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালি বলাকা পেট্টল পাম্পে গিয়ে পেট্টল ও অকটেন সেবা বন্ধ থাকতে দেখা যায়। মল্লিকপুর সিন্থিয়া ফিলিং স্টেশনে দুইদিন বিক্রয় বন্ধ থাকার পর নির্দিষ্ট পরিমাণে দেয়া হচ্ছে পেট্টল। তবে চাহিদা অনুযায়ী পেট্টল কিনতে পারছেন না গ্রাহকরা। স্বল্প পরিসরে পেট্টল পেট্টল সেবা চালু হলেও অকটেনের সরবরাহ না থাকায় বন্ধ রয়েছে বিক্রয়। কবে নাগাদ অকেট পাওয়া যাবে এবিষয়ে সঠিক বলতে পারছেন না পাম্প কর্তৃপক্ষ।
পাম্পের ম্যানেজার আল আমীন বলেন, পেট্টল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ ছিলো৷ আজ পেট্টলের গাড়ি এসেছে। নির্দিষ্ট পরিমাণে গ্রাহকদের পেট্টল দেয়া হচ্ছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় তাদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্টল দেয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ না থাকায় অকটেন দেয়া যাচ্ছে না। কবে অকটেন পাওয়া যাবে তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে পাম্পে তেল না থাকলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে কিছু দোকানে বেশি দামে পেট্রোল-অকটেন তেল মিলছে। তবে এজন্য লিটার প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
সরকার নির্ধারিত দরে সীমিত পরিসরে লিটার প্রতি পেট্রোল ৮৬ টাকা ৭৭ পয়সা ও অকটেন ৮৯ টাকা বিক্রির পরিবর্তে কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ি পেট্টল ১২০ টাকা ও অকটেন ১৩০ টাকা বিক্রি করছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত পেট্টল ও অকটেনের সরবরাহ মজুদ করে বাজার স্থিতিশীলের দাবি সাধারণের।
কামরুজ্জামান নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, গত দুইতিন ধরে পেট্টল ও অকটেন কিনতে পারছি না। আজ একটি পাম্প থেকে সামান্য পেট্টল কিনেছি। তা দিয়ে কত সময় চলবো জানি না।
জাকারিয়া হোসেন নামে আরেক মোটরবাইক আরোহী বলেন, বাজারে খাবার তেল উধাও, এখন জ্বালানী তেল। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাবো। সরকারের উচিৎ তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা।
জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, সয়াবিল তেলের বাজার নিয়ে কাজ করছি৷ পেট্টল ও জ্বালানি তেল নিয়ে আগামীকাল থেকে কাজ করবো। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুচরা বাজারেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / শহীদনূর / ডি.আর
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.