টাঙ্গাইলের বাসাইলে তৃষা (৯) নামের এক শিশুকে গলায় ওড়না পেঁচানো ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শিশুটি ঝুলন্ত অবস্থায় বাঁচার জন্য ছটফট করছিল।
বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকালে উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার (২৮ মে) রাতে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
তৃষা উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের আবু ভূঁইয়ার ছোট মেয়ে। সে বাসাইল শহীদ ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এ মৃত্যুর ঘটনায় রোববার বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ মে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় তৃষার মা তার বড় ছেলেকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়িতে এসে দেখতে পান তার মেয়ে তৃষা ঘরের সিলিং ফ্যানে গলায় ওড়না বাঁধা অবস্থায় ফাঁসিতে ঝুলে আছে। বাঁচার জন্য ছটফট করছে। এ সময় বাড়িতে কোনো লোকজন না থাকায় তৃষার মা ও ভাই মিলে তৃষাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে নেওয়ার পর তৃষার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্মরত চিকিৎসকরা। এরপর তৃষার অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। এরপর টানা ২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাতে তৃষার মৃত্যু হয়।
পরিবার জানিয়েছেন, শিশু তৃষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবি জানান।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিশু তৃষার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.